দেশজুড়ে

পরকীয়ার গুঞ্জন: যুবকের শরীরে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা

নওগাঁয় টাকা লেনদেন ও পরকীয়া সম্পর্কের জেরে বুলবুল আহমেদ (৩২) নামে এক যুবককে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাবিব নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে শহরের চকমুক্তার মন্ডলপাড়া (চারা বাগান) মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বুলবুল আহমেদ নীলফামারী জেলার উত্তর দুরাকুটি গ্রামের বাহান উদ্দিনের ছেলে। ঘটনার পর থেকে হাবিবের স্ত্রী মোসলেমা পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ শহরের চকমুক্তার মন্ডলপাড়া (চারা বাগান) মহল্লায় গত এক বছর থেকে কাজী আব্দুস সামাদের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন হাবিব ও তার স্ত্রী মোসলেমা। তাদের ২০ বছরের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। হাবিবের বাড়ি নীলফামারী জেলার উত্তর দুরাকুটি গ্রামে। তবে তার স্ত্রী মোসলেমার বাবার বাড়ি নওগাঁ শহরের মাস্টারপাড়া মহল্লায়। নিহত বুলবুল আহমেদ ও আটক হাবিব সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

সোমবার রাত ৮টার দিকে কাজী আব্দুস সামাদের বাসার পেছনে হাবিব ও মোসলেমার সঙ্গে বুলবুল আহমেদের তর্ক-বিতর্ক হয়। এক সময় গায়ে আগুন নিয়ে চিৎকার দিয়ে পাশে ডোবা ভেবে কচুরিপানায় ঝাঁপ দেন বুলবুল। তবে সেখানে পানি ছিল না। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে বস্তা ও পাশে পড়ে থাকা ইটের গুড়ি (রাবিশ) দিয়ে আগুন নেভায়।

এ সময় তাকে উদ্ধার করে রাত ৯টার দিকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে রেফার্ড করে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান বুলবুল। ঘটনার পর থেকে মোসলেমা পলাতক রয়েছেন।

বুলবুলকে এর আগে শহরের বাসিন্দারা কখনো দেখেননি। সন্ধ্যায় ওই মহল্লার রাস্তা ও গলিতে ‘একটি প্রেমের ঘটনা’ কাগজে লেখা অবস্থায় মোসলেমা ও বুলবুলের ছবিসহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই কাগজে লেখা মোসলেমাকে বিভিন্ন সময় বুলবুল টাকা দিয়েছেন এবং তাকে নিয়ে সংসার করতে চান।

হাসপাতালে জরুরি বিভাগে গুরুতর আহত অবস্থায় বুলবুলকে বলতে শোনা যায়, ‘মোসলেমা ও হাবিব তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।’

কাজী আব্দুস সামাদের স্ত্রী শাহারা বেগম বলেন, গত এক বছর ধরে মোসলেমা ও হাবিব আমাদের বাসায় ভাড়া ছিলেন। রাত ৮টার দিকে গায়ে আগুন নিয়ে দৌঁড়ে দোকানের সামনে দিয়ে একজন কচুরিপানার মধ্যে লাফ দেয়। পরে কয়েকজন আগুন নিভিয়ে আহত ছেলেটিকে হাসপাতালে নেয়।

স্থানীয় মান্নান নামে একজন বলেন, একটি কাগজে ‘ভালোবাসার গল্প’ লেখা ছিল। এছাড়া নিকাহনামার ফটোকপি কাগজের সঙ্গে মোসলেমা ও বুলবুলের ছবিও লাগানো ছিল। এতে বুঝা যাচ্ছে স্বামী সংসার থাকার পরও দুজনের মাঝে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান বলেন, কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। হাবিব-মোসলেমা ও বুলবুলের সঙ্গে টাকা লেনদেনের একটি বিষয় ছিল। তাকে টাকা দেবে মর্মে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হতে পারে। পরে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে বুলবুলের গায়ে কেরোসিন দিয়ে তারা আগুন লাগিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, পরকীয়ার সম্পর্কও থাকতে পারে। নিহত বুলবুল ও হাবিব সম্পর্কে চাচাতো ভাই। ঘটনার পর হাবিবকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা হবে।

আব্বাস আলী/এফএ/এমএস