ধর্ম

আল্লাহর কাছে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার আমল

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব বিপদ থেকে নিরাপদ রাখুন। রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজানে তাঁর একান্ত আশ্রয় দান করুন। এটাই মুমিন মুসলমানের প্রত্যাশা। কেবল আল্লাহ তাআলাই সবাইকে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন। কিন্তু আল্লাহর কাছে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার আমল কী?

আল্লাহর কাছে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার জন্য প্রয়োজন আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন করা। হাদিসের পাকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের কৌশল জানিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। তাছাড়া আল্লাহর নেকট্য অর্জন ও ভালোবাসা লাভের সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে তার কাছে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে উৎসর্গ করে দেওয়া। আল্লাহর কাছে নিজেকে উৎসর্গ করার অন্যতম মাধ্যম হলো একনিষ্ঠতার সঙ্গে নামাজ আদায় করা। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

اَقِمِ الصَّلٰوۃَ لِدُلُوۡکِ الشَّمۡسِ اِلٰی غَسَقِ الَّیۡلِ وَ قُرۡاٰنَ الۡفَجۡرِ ؕ اِنَّ قُرۡاٰنَ الۡفَجۡرِ کَانَ مَشۡهُوۡدًا  وَ مِنَ الَّیۡلِ فَتَهَجَّدۡ بِهٖ نَافِلَۃً لَّکَ ٭ۖ عَسٰۤی اَنۡ یَّبۡعَثَکَ رَبُّکَ مَقَامًا مَّحۡمُوۡدًا

‘সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার সময় হতে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ প্রতিষ্ঠা করুন, আর ফাজরের নামাজে কুরআন পাঠ (করার নীতি অবলম্বন করুন), নিশ্চয়ই ফাজরের নামাজের কুরআন পাঠ (ফেরেশতাগণের) সরাসরি সাক্ষ্য হয়। আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ুন, ওটা আপনার জন্য নফল, শীঘ্রই আপনার প্রভু আপনাকে প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ৭৮-৭৯)

এ আয়াত দুইটিতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার নৈকট্য অর্জনের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। তাহলে প্রশ্ন জাগে-

মানুষ কি নিজেদের পরিবার ও মুসলিম উম্মার নিরাপত্তার জন্য সময় মতো নামাজ পড়ে এবং রাতে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে?

আর যদি তা না করে থাকে তাহলে চিন্তার বিষয়- মানুষের অবস্থান কোথায়? নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নীরবে-নির্জনে পবিত্র হৃদয় নিয়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা জরুরি। হাদিসের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আমল করা জরুরি। এ সম্পর্কে হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এসেছে-

১. হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিয়মিত তোমাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া উচিত। কেননা এটা অতীতের সব সৎকর্মশীলদের পদ্ধতি ছিল এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম ছিল। এই অভ্যাস পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে, মন্দ কাজ দূর করে আর শারীরিক রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষা করে।’ (তিরমিজি)

২. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রাতে শেষ প্রহর যখন আসে তখন আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন আর বলেন, আছো কি কেউ? যে আমার কাছে দোয়া প্রার্থনা করবে আর আমি তার দোয়া কবুল করবো। কেউ কি আছো? যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আর আমি তাকে ক্ষশা করবো। কেউ কি আছো? সে তার নিজের দুঃখ-ক্লেশ দূর করার জন্য প্রার্থনা করবে? আমি তার দুঃখ-কষ্ট বিদূরিত করে দেবো। এভাবে আল্লাহ তাআলার এই আহ্বান (ততক্ষণ পর্যন্ত) চলতেই থাকে এমন কি সুবহে সাদেক তথা সকালের আলোক রেখা ফুটে ওঠে।’ (মুসনাদে আহমাদ)

৩. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলেন, যে আমার বন্ধুর সঙ্গে দুশমনি করেছে আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। আমার বান্দা, যতটা আমার নৈকট্য, যা কিছু আমার পছন্দ আর আমি তাদের জন্য যেসব ফরজ করে দিয়েছি, তা থেকে লাভ করতে সক্ষম হবে, ততটা অন্য আর কিছু থেকে লাভ করতে পারবে না। আরও নফলের মাধ্যমে আমার বান্দা আমার এমন  নিকটতর হয়ে যায় যে, আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করে দিই। আর আমি তাকে যখন নিজের বন্ধু বানিয়ে নেই তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দ্বারা সে শুনে, চোখ বনে যাই  যাই যা দ্বারা সে দেখে, তার হাতে পরিণত হই যা দ্বারা সে ধরে রাখে, তার পা হয়ে যাই যা দ্বারা সে চলা-ফেরা করে, অর্থাৎ আমি-ই তার রূপকার-নির্মিতা। আমার কাছে চাইলেই আমি তাকে দিই, সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে আমি তাকে নিরাপদ আশ্রয় দান করি।’ (বুখারি)

৪. হজরত আবু হুরায়ারা রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তির ওপরও আল্লাহ তাআলা রহম করুন, যে রাতের বেলায় জেগে ওঠে ও নামাজ পড়ে আর প্রিয়তমা স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয়। স্ত্রী জেগে ওঠতে গরিমসি করলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়; যাতে সে সজাগ হয়ে ওঠে পড়ে। অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা সেই নারীর প্রতিও রহম করেন, যে প্রথমে জেগে ওঠে, নামাজ পড়ে আর প্রিয়তম স্বামীকেও জাগিয়ে তুলে। স্বামী জেগে ওঠতে গড়িমসি করলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়; যাতে সে জেগে ওঠে।’ (আবু দাউদ)

আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল, তিনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তিনি চাইলেই মুসলিম উম্মাহকে ক্ষমা করতে পারেন। সুতরাং মুমিন মুসলমানের কাজ হলো- নামাজ পড়ে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া। গভীর রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে তার দরবারে কান্নাকাটি করা।কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলা। ব্যক্তি পরিবার দেশসহ পুরো বিশ্ববাসীর শান্তির জন্য দোয়া করা।

এমএমএস/জিকেএস