যশোরে মসজিদের ভেতরে বীর মুক্তিযোদ্ধার দুই সন্তানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা হলেও এরইমধ্যে পাঁচ আসামি জামিনে বের হয়েছেন। তারা নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওহাব বুধবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।
উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল ওহাব বলেন, গত ৮ এপ্রিল বাহাদুরপুর বাশিয়াপাড়া মোল্লাপাড়া জামে মসজিদ নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে আসরের নামাজের পর তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা আমার ছেলে কামরুজ্জামানের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়। এরপর আমি দুই ছেলে কামরুজ্জামান ও আরিফুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়তে যাই।
তিনি বলেন, নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় আসামি জনি, ইমদাদুল, আশিকুর, রিপন, ইমরান ও শাহিনুর ছুরি, রড ও অন্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একত্রিত হয়ে আমাদের পথরোধ করে। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে আমার বড় ছেলে কামরুজ্জামানের তলপেটে আঘাত করে। এতে সে গুরুতর জখম হয়। আমার ছোট ছেলে আরিফুজ্জামান আসামিদের থামাতে গেলে লোহার রড দিয়ে তার ডান হাতে আঘাত করে। লোহার রডের আঘাতে তার হাত ভেঙে গেছে। ঘটনা দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওহাব আরও বলেন, বড় ছেলে কামরুজ্জামানকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার দিন রাতেই ছয়জনকে আসামি করে কোতয়ালী থানায় মামলা করেছি। মামলার দুইদিন পর পাঁচ আসামি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। আরেকজন পলাতক। জামিন পাওয়া আসামিরা এলাকায় ফিরে নানাভাবে আমাদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তালবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ একরামুল হুদা বলেন, মামলার পাঁচ আসামি জামিনে আছেন। প্রধান আসামি পলাতক। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার বিষয়ে বাদী আমাকে কিছু বলেননি। তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে।
সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, ওহিদুজ্জামানা চাকলাদার, সৈয়দ আব্দুল হক, আবদুল ওহাবের ছোট ছেলে আরিফুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মিলন রহমান/এমআরআর/জিকেএস