দেশজুড়ে

কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনা: ৪৭ ঘণ্টা পর শেষ হলো উদ্ধার কাজ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ট্রেন দুর্ঘটনার ৪৭ ঘণ্টা পর শেষ হলো উদ্ধার কাজ। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেন সোনার বাংলার ইঞ্জিন ও মালবাহী ট্রেনের একটি বগি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বুধবার সকালে ট্রলির মাধ্যমে চট্টগ্রামে তা স্থানান্তর করা হবে।

এর আগে রোববার রাত দেড়টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সোমবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে আরও একটি রিলিফ ট্রেন আসলে ভোর সাড়ে ৬টা থেকে একসঙ্গে উদ্ধার কাজে শুরু হয়।

উদ্ধার কাজে নেতৃত্বদানকারী রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ব্যবস্থাপক আবিদুর রহমান মঙ্গলবার রাত ৮টায় জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনা তদন্তে পৃথক কমিটি

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ফলে তিন ও চার নম্বর লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূল লাইন দুটির ক্ষতি না হওয়ায় ওই রাত থেকে আপ ও ডাউন দুইদিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আমাদের সম্মিলিত উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

আবিদুর রহমান বলেন, সোনার বাংলা ট্রেনের ইঞ্জিন ও মালবাহী ট্রেনের একটি বগি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে লাইনে তোলা সম্ভব হয়নি। আপাতত সেগুলো নিরাপদে সরিয়ে রেখে লাইন মেরামতসহ সব কাজ শেষ করা হয়। বর্তমানে আপ এবং ডাউন দুইদিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন ও বগিটি বুধবার (১৯ এপ্রিল) সকালে ট্রলির মাধ্যমে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হবে।

লোডশেডিংয়ের কারণে ট্রেন দুর্ঘটনায় শিকার হয়েছে যারা এমন সংবাদ করেছেন, তা সঠিক নয় উল্লেখ করে রেলওয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, লোডশেডিং হতেই পরে, তার মানে এই নয় যে ট্রেন অ্যাকসিডেন্ট হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু রুলস আছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে কীভাবে ট্রেন চালাতে হবে। ট্রেন কমিউনিকেশন কীভাবে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। চালকসহ তাদের ভুলের কারণেই এটি হয়েছে। বিদ্যুতের কারণে নয়। প্রাথমিকভাবে এটাই ধারণা করা হচ্ছে। যার ফলে চালকসহ সংশ্লিষ্ট চারজনকে প্রাথমিকভাবে বরখাস্ত করা করেছে।

আরও পড়ুন: চালকের অবহেলায় সোনার বাংলা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার শিকার

এর আগে রোববার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নাঙ্গলকোট উপজেলার হাসানপুর রেলওয়ে স্টেশনের পূর্বপাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রেনের পেছনে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সোনার বাংলা ট্রেনটি ধাক্কা দেয়। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে সাতটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

এসময় মালবাহী ট্রেনটির চারটি বগিও লাইন থেকে ছিটকে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সোনার বাংলা ট্রেনের চালকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেন।

এরপর রাতেই কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ শামীম আলম, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল মান্নান, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ওই রাতেই দুর্ঘটনার কারণ জানতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি ও রেলওয়ের পক্ষ থেকে চার সদস্যবিশিষ্ট আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুই কমিটিকেই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মালবাহী ট্রেনে সোনার বাংলার ধাক্কা, আহত অর্ধশতাধিক

এ ঘটনায় সোমবার (১৭ এপ্রিল) সকালে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক মো. জসিম উদ্দিনসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এ বিষয়ে রেলের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের পক্ষ থেকে চার সদস্যবিশিষ্ট যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন। আশা করছি, সেই প্রতিবেদনে সঠিক কারণ জানতে পারবো। এরপর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাহিদ পাটোয়ারী/এমআরআর/এমএস