জাতীয়

তীব্র দাবদাহে অতিষ্ঠ চিড়িয়াখানার প্রাণিকূল

দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অসহনীয় তাপপ্রবাহে ওষ্ঠাগত প্রাণ। এ গরমের প্রভাব পড়েছে ঢাকা চিড়িয়াখানার প্রাণীদের উপরও। দাবদাহে অতিষ্ঠ প্রাণীদের খাদ্য গ্রহণেও অনীহা দেখা দিয়েছে। তাপ থেকে বাঁচতে কোনো প্রাণী নেমেছে পানিতে। কোনোটি আশ্রয় নিয়েছে গাছের ছায়ায়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, পানিশূন্যতায় ভুগতে থাকা প্রাণীদের দেওয়া হচ্ছে তরল খাবার এবং স্যালাইন। নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি ও গোসলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বদলে দেওয়া হয়েছে খাবারের তালিকাও।

বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় চিড়িয়াখানায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তীব্র গরমে বেশিরভাগ প্রাণী খুঁজছে একটু শীতল ছায়া। বাঘ, বানরকে পানির চৌবাচ্চায় বসে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে হরিণ। গরমের ধকল কাটাতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি পরিচর্যা। গরমের কারণে হাতিকে গোসল করাচ্ছেন কর্মীরা। এছাড়া জিরাফ, পাখিসহ অন্যান্যা প্রাণীদের প্রচণ্ড গরমে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: চিড়িয়াখানার প্রাণী উত্ত্যক্ত করলে গুনতে হবে জরিমানা: সংসদে বিল

অন্যান্য প্রানীদের মতো উটপাখি এবং ইমু পাখিকেও ওষুধ মিশ্রিত স্যালাইন পানি খাওয়ানো হচ্ছে। বাঘ, সিংহ ও ভাল্লুুকের খাঁচায় দিনে দুবার পানি পরিবর্তন করা হচ্ছে। এছাড়া তীব্র গরমে প্রাণীদের খাদ্য গ্রহণে অনীহা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, গরমে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণী অসুস্থ হয়নি। গরম পড়ার আগে থেকেই প্রাণীদের বাড়তি যত্ন নেওয়া শুরু করেছি। প্রাণীদের কৃমিনাশক ও টিকা দেওয়ার কাজটি গরম পড়ার আগেই শেষ করে ফেলেছি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন-মিনারেল সাপ্লিমেন্ট যোগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গরম পড়ার পর তাদের আরামের জন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদের পানিতে ইলেক্ট্রোলাইট মেশানো হয়েছে। খাঁচায় ২৪ ঘণ্টা পানির সাপ্লাই নিশ্চিত করা হয়েছে। গোসলের পানি পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে। গরম পানি ফেলে দিয়ে চৌবাচ্চায় ঠান্ডা পানি দিয়ে দিচ্ছি।

প্রাণীদের সুরক্ষায় আরও পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব প্রাণী বাথটাবে গোসল নিতে পারে না তাদের আমরা আলাদাভাবে গোসল করানোর ব্যবস্থা করছি।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দানাদার খাবারটা প্রাণীদের খুব ভোরে দিচ্ছি। কিছু কিছু প্রাণিকে আমরা তরমুজ দিচ্ছি। এটা নতুন শুরু করেছি আমরা।

এসএম/এমএইচআর/জেআইএম