জাতীয়

শীর্ষস্থান হারালো জার্মানি, বাংলাদেশের অগ্রগতি

বৈশ্বিক লজিস্টিকস সূচকে ১২ ধাপ এগিয়ে এখন ৮৮তম অবস্থানে বাংলাদেশ। এর আগের সূচকে (২০১৮ সালে) বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম। ২০১৮ সালের সূচকে শীর্ষস্থানে থাকা জার্মানির অবস্থান এখন তৃতীয়। নতুন সূচকে শীর্ষস্থান দখল করেছে সিঙ্গাপুর, ২০১৮ সালে দেশটি ছিল সপ্তম অবস্থানে।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর গত শনিবার (২২ এপ্রিল) লজিস্টিকস পারফরম্যান্স সূচক-২০২৩ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। লজিস্টিকস পারফরম্যান্স সূচক (এলপিআই) মূলত বাণিজ্যের ছয়টি মাত্রার ওপর ভিত্তি করে দেশগুলোর র‌্যাংক নির্ধারণ করা হয়।

বিশ্বব্যাংক জানায়, কাস্টমস কর্মক্ষমতা, অবকাঠামোগত গুণমান এবং শিপমেন্টের সময়োপযোগিতা সহ র‌্যাংকিংয়ে ব্যবহৃত ডেটা লজিস্টিক পেশাদারদের একটি জরিপ থেকে আসে। মূলত কাস্টমস এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ছাড়পত্রের দক্ষতা বা শুল্ক, বাণিজ্য ও পরিবহন পরিকাঠামো বা অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের চালানের ব্যবস্থা বা শিপমেন্টের ব্যবস্থা সহজ করা, লজিস্টিক পরিষেবা দক্ষতা এবং গুণমান ট্রাকিং, ফরওয়ার্ডিং এবং কাস্টমস ব্রোকারেজ মান উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করেই এলপিআই র‌্যাংকিং করা হয়। চালান ট্র্যাক এবং ট্রেস করার ক্ষমতা ও ফ্রিকোয়েন্সি সহ শিপমেন্ট নির্ধারিত বা প্রত্যাশিত ডেলিভারি সময়ের মধ্যে মালামাল পৌঁছানোও নির্ভর করে।

পণ্য ও সেবার উৎপত্তিস্থল থেকে শুরু করে সর্বশেষ ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাকে বাণিজ্যিকভাবে ‘লজিস্টিকস’ বলে। কোন দেশের লজিস্টিকস পরিস্থিতি কেমন, তা জানার জন্য বিশ্বব্যাংক ২০০৭ সাল থেকে লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্স (এলপিআই) প্রকাশ করে আসছে। সর্বশেষ প্রকাশিত এ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর এবং বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। বিশ্বব্যাংক পাঁচ বছর পর এ সূচক প্রকাশ করলো, যে সময়ের মধ্যে কোভিড মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বিশ্বে পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্কোর ২ দশমিক ৬ এবং অবস্থান ১৩৯ দেশের মধ্যে ৮৮তম। এর আগে ২০১৮ সালে এ সূচকের ফলাফল প্রকাশিত করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম। তবে ওই বছর ১৬০টি দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২ দশমিক ৫৮। বাংলাদেশের এলপিএল স্কোর ২ দশমিক ৬ হওয়ার সুবাদে র‌্যাংকিংয়ে ৮৮তম স্থানে রয়েছে। তবে অন্যান্য সূচকে দেখা গেছে, বাংলাদেশের কাস্টম স্কোর ২ দশমিক ৩, অবকাঠামো স্কোর ২ দশমমিক ৩, শিপমেন্ট স্কোর ২ দশমিক ৬, লজিস্টিক কম্পিটেন্স অ্যান্ড কোয়ালিটি স্কোর ২ দশমিক ৭, টাইমলাইন্স স্কোর ৩ এবং ট্র্যাকিং স্কোর ২ দশমিক ৬।

এই সূচকে সর্বাধিক ৪ দশমিক ৩ স্কোর করে লজিস্টিকস পারফরম্যান্স সূচকে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সিঙ্গাপুর। এর পরে শীর্ষ পাঁচে রয়েছে ফিনল্যান্ড, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং সুইজারল্যান্ড। এছাড়া ১০ এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, চীন, হংকং। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। পিছিয়ে আছে ভুটান ও আফগানিস্তান। পাকিস্তান, নেপাল ও মালদ্বীপ তালিকার মধ্যে নেই। ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান ৩৮তম এবং শ্রীলঙ্কার ৭৩তম। অন্যদিকে আফগানিস্তান ও ভুটানের অবস্থান যথাক্রমে ১৩৮ এবং ৯৭তম।

অবকাঠামো ও কাস্টম সুবিধাসহ নানা কারণে বৈশ্বিক লজিস্টিকস সূচকে বাংলাদেশ এগিয়েছে বলে দাবি করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মূলত যারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ডিল করে, সরাসরি কাস্টমস শিপমেন্ট ড্রিল করে ওদেরকে নিয়ে সার্ভে করেই লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্স নির্ণয় করা হয়। এটা করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন করা হয়। যেমন বন্দরে মালামাল আসলে জাহাজে খালাসে কতটুকু সময় লাগে, জাহাজ বন্দরে আসলে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাবমিট করলে কতটুকু সময়ে নিষ্পত্তি হয়, কি ধরনের অবকাঠামো সুবিধা আছে- এইসব বিষয় দেখা হয়।

তিনি বলেন, কয়েকটি সূচকের ভিত্তিতে একটা র‌্যাংকিং করা হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানির সেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলো এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। দীর্ঘ পাঁচ বছর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলো। বাংলাদেশ অনেক ভালো করেছে। নিঃসন্দেহে বলা যায় অবকাঠামো ও কাস্টমসে বাংলাদেশের অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এসব কারণেই মূলত লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্সে বাংলাদেশ ভালো করেছে।

এমওএস/কেএসআর/জেআইএম