দেশজুড়ে

অভিযানে পুলিশের তিন সদস্যকে কুপিয়ে জখম

কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্ত্রধারী অপরাধীকে আটকের চেষ্টাকালে তিন পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় দুর্বৃত্তরা এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্রও ছিনিয়ে নেয়।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছনিয়াকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, চকরিয়া থানার এসআই শামীম আল হাসান, কনস্টেবল তারিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ মামুন। হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৪ নারী-পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আটকদের সিংহভাগই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি পরিবারের। তবে আটকদের নাম ও পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

আহতদের বরাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিক বলেন, মঙ্গলবার মধ্যরাতে চকরিয়া থানার আওতাধীন হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. শামিম আল মামুনের নেতৃত্বে তিন পুলিশ সদস্য নিয়মিত টহল দিতে সিএনজি অটোরিকশায় বের হয়ে বরইতলী-মগনামা সড়কের দিকে যান। এ সময় মোহছনিয়াকাটা এলাকায় সড়কের পাশে ধারালো দা ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক তরুণকে দেখতে পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে আটকের চেষ্টা চালায়। এতে সে ধাওয়া খেয়ে স্থানীয় গ্রামে ঢুকে পড়ে।

পরে পুলিশ সদস্যরা ওই অস্ত্রধারীকে আটকের জন্য গ্রামে অভিযানে নামেন। এ সময় ৪০ থেকে ৫০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। লুট করা হয় এক পুলিশ সদস্যের অস্ত্র। এতে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিন পুলিশ সদস্য জখম হন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালায়। এতে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৪ নারী-পুরুষকে আটক করেছে। পরে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে পুলিশ।

এদিকে চকরিয়া থানার সামনে অবস্থান করা আটক কয়েকজনের অভিভাবকরা জানান, গ্রেফতারদের অধিকাংশই হামলার সঙ্গে জড়িত নয়।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস