রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে ঘুস গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. আলী মর্তুজা মঙ্গলবার (২ মে) প্রতিকার চেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম বলেছেন, জরুরি বিভাগে আগত রোগীদের অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে আগে পরে সেবা দেওয়া নিয়ে রোগীরা আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারেন।
ভুক্তভোগী মর্তুজার অভিযোগ, ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ইস্রাফিল নামের এক রোগী নিয়ে জরুরি বিভাগে আসেন। এ সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা ইস্রাফিলকে সেবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ওই বিভাগে কর্মরত সাইফুল ইসলাম ১৫০০ টাকা দিলে সেবা পাওয়া যাবে বলে আমাকে জানান। তার হাতে দাবিকৃত টাকা দেওয়ার পর তিনি রোগীর সেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন।
কিন্তু টাকা দেওয়ার দীর্ঘক্ষণ পরও সেবা না পেয়ে রোগীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় আমরা ঢাকায় নিয়ে যাই। যথা সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় রোগী এখনও সংকটাপন্ন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, কখনো কখনো জরুরি বিভাগে হঠাৎ রোগীর চাপ বাড়ে। তখন সেবাগ্রহীতাদের একসঙ্গে সেবা দেওয়া যায় না। রোগীর অবস্থা ও সংকট বিবেচনা করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সবাই আগে সেবা পেতে চায়। অনেকেই আগে সেবা না পেয়ে আমাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন। সংক্ষুব্ধরা আমাকে হয়রানি করতে কল্পিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী বলেন, রোগীর এক স্বজন জরুরি বিভাগে কর্মরত সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এফএ/এএসএম