দেশজুড়ে

পর্যটকে সরগরম কক্সবাজার

বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও সপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে তিনদিনের টানা ছুটিতে পর্যটকে সরগরম হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। মেঘ-রুদ্দুর খেলায় গরম উপেক্ষা করে বৃহস্পতি-শুক্রবার বিকেল নাগাদ পর্যটক-দর্শনার্থী মিলে লাখো ভ্রমণপ্রেমী উপস্থিত হয়েছে সমুদ্র তীরে।

সৈকতের পাশাপাশি কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, ইনানী, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া ও মহেশখালীর বিনোদন কেন্দ্রেও দর্শনার্থীর ভিড় বেড়ছে। এতে ঈদের পর হতে জমিয়ে বাণিজ্য করছে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। বর্ষা পর্যন্ত সপ্তাহিক ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটক ও দর্শনার্থী সমাগম উল্লেখযোগ্য হারে থাকবে বলে আশা তারা।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার বলেন, ঈদের ছুটি ও পরবর্তী সময়ে গরমেও আশানুরূপ পর্যটক এসেছে কক্সবাজারে। হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউজ সন্তোষজনক ব্যবসা করছে। গরমের কারণে ৩০ এপ্রিলের পর তেমন পর্যটক আসবে বলে মনে হয়নি। কিন্তু বৌদ্ধ পূর্ণিমার ছুটির সঙ্গে সপ্তাহিক মিলিয়ে টানা তিনদিনের ছুটি কাজে লাগিয়ে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও দর্শনার্থী কক্সবাজার এসেছে।

তিনি আরও বলেন, পর্যটক আসায় বেচা-বিক্রি বেড়েছে রেস্তারাঁ, কুলিং কর্ণারসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। বৃহস্পতিবার হতে প্রতিদিন অর্ধলাখের মতো পর্যটক অবস্থান করছেন। শনিবারও ভ্রমণপিয়াসীদের এ অবস্থান থাকতে পারে।

সৈকত ঘুরে দেখা যায়, সকাল-দুপুর ও সন্ধ্যায় সৈকতের সুগন্ধা-লাবণী পয়েন্টসহ সব পয়েন্টে পর্যটক ও দর্শনার্থীর ভিড় রয়েছে। উত্তাল সাগরের ঢেউ উপেক্ষা করে গোসল করছেন অনেক পর্যটক। টানা দাবপ্রবাহ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বৃষ্টির দেখা নেই। মাঝে মাঝে মেঘ-রুদ্দুর খেলা করছে। পর্যটকরা আনন্দ করছে বিচ বাইক ও ঘোড়ার পিঠে চড়ে।

গোসলরত পর্যটকদের মাঝে বিপদাপন্ন হওয়াদের উদ্ধারে কাজ করা সি-সেইফ লাইফগার্ড কর্মী খোরশেদ আলম বলেন, স্বল্প সংখ্যক লাইফগার্ড কর্মী দিয়ে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সামাল দেয়া কষ্টকর। সাগরে নামা পর্যটকদের পর্যবেক্ষণে পৃথক চারটি টাওয়ার এবং পানিতে দাঁড়িয়ে নজরদারি করা হয়।

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, প্রতিটি রুম শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। তাই সাচ্ছন্দ্যময় জীবনে অভ্যস্থ ভ্রমণপ্রেমীরা আমাদের অতিথি হন। বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও সপ্তাহিক ছুটিতেও মোটামুটি পর্যটক হয়েছে। এসময়ে যারা আসছেন তারা ভালোই ডিসকাউন্ট পাচ্ছেন।

সি-নাইট হোটেলের ব্যবস্থাপক শফিক ফরাজি বলেন, গরমেও ব্যবসা মোটামুটি জমেছে। পর্যটকরা বেশি ডিসকাউন্ট আশা করছেন। রুম যেহেতু খালি যাচ্ছে, যে যেমনটি পারছে- দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ফেনী সদর হতে আসা পর্যটক রাজেস বড়ুয়া বলেন, বৌদ্ধ পূর্ণিমার ছুটির সঙ্গে সপ্তাহিক দুদিন মিলিয়ে মোট তিনদিনের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার এসেছি। একটু গরম হলেও খুবই উপভোগ করছি।

চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকা হতে আসা ইয়াছির আরাফাত বলেন, ঈদে আসার কথা ছিল। কিন্তু আসা হয়ে উঠেনি। পারিবারিক পীড়াপীড়িতে তিনদিনের জন্য কক্সবাজার এসেছি। রোববার ভোরে রওয়ানা হয়ে অফিস ধরবো।

জেলা সদরের বাইরেও হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, মহেশখালী, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ জেলার সব পর্যটন স্পটে জনসমাগম হচ্ছে।

ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের তত্ত্বাবধায়ক (ইনচার্জ) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, সাফারিপার্ক বড় বড় বৃক্ষরাজিতে পূর্ণ। শীতল পরিবেশে কাছের মানুষ নিয়ে ঘুরতে মজা লাগে। এ কারণে বন্ধের দিনে প্রকৃতিপ্রেমীরা পার্কে ভিড় জমাচ্ছেন। দর্শনার্থী আসছেন প্রতিদিন। পার্কের আধুনিকায়ন হওয়ায় পর্যটকরা বিনোদিত হচ্ছেন।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, বৈশাখের দাবদাহের মাঝেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক আগমন ঘটছে। পর্যটন অনুষঙ্গ সকল সেক্টরে ভালো বাণিজ্য হবে বলে আশা করছি।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, ঈদের ছুটির মতো বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও সপ্তাহিক ছুটিতেও পর্যটক বড়েছে। সব স্পটে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ দমনে মাঠে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সব স্পটেই একইভাবে দায়িত্বপালন করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানান, সারাদিনের ক্লান্তি তাড়াতে বিকেলে সৈকত তীরে লোকসমাগম উল্লেখ করার মতো হয়। স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকের পদচারণা বড়েছে বেলাভূমি ও কক্সবাজারের সর্বত্র। সবার বিচরণ নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের একাধিক টিম টহলে রয়েছে। ভ্রমণপ্রেমীদের আনন্দ নিশ্চিতে আমরা সর্বদা সচেষ্ট।

সায়ীদ আলমগীর/এএইচ/এএসএম