ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে গৃহবন্দি করে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে নির্যাতন চালান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
রোববার (৭ মে) দিনগত মধ্যরাতে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে কাগদি গ্রামের কৃষক মফিজুর শেখের ছেলে হাসান শেখের (২৫) সঙ্গে পাশের নগরকান্দা উপজেলার বিবিরকান্দি গ্রামের আবুল কাশেম মাতুব্বরের মেয়ের বিয়ে হয়। এরপর থেকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা আনার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। ওই গৃহবধূ বাবার কাছ থেকে কয়েক দফায় কয়েক লাখ টাকা এনে দিয়েছেন। কিন্তু বছরখানেক পর আবার নির্যাতন শুরু হয়। এভাবেই প্রায় তিন বছর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন তিনি। তাদের সংসারে দেড় বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
সবশেষ রোববার রাতে বিদেশ যাওয়ার জন্য স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন হাসান ও তার পরিবারের সদস্যরা। এতে আপত্তি জানালে ওই গৃহবধূর ওপর সবাই মিলে শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধারের জন্য ভুক্তভোগীর বাবা সালথা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ওই রাতেই পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূ বলেন, সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামীর বাড়ির লোকজনের নির্যাতন সহ্য করেও সংসার করে আসছি। কিন্তু আমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের অমানবিকতা এবং নির্যাতন বন্ধ হয়নি। যৌতুকের জন্য প্রায়ই তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। বিদেশ যাওয়ার নামে পাঁচ লাখ টাকার জন্য রোববার রাতেও আমাকে প্রচণ্ডভাবে মারপিট করে বাসায় বন্দি করে রাখে। উপায় না পেয়ে আমি মোবাইলফোনে বাবাকে বিষয়টি জানাই। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে গৃহবধূর স্বামী হাসান শেখ বলেন, বিয়ের সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে আমাকে পাকা ঘরসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো তারা আমাকে তেমন কিছুই দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, এটি সাংসারিক বিষয়। এ অভিযোগ নিয়ে আমার কিছুই বলার নেই।
এ বিষয়ে সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়ে রাতেই তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাদিক বলেন, গৃহবধূকে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে এমন একটি অভিযোগ পেয়ে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এন কে বি নয়ন/এমআরআর/জেআইএম