লিচুর গ্রামখ্যাত মধুখালী উপজেলার জাহাপুর। জাহাপুর গ্রামের লিচু জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। কয়েক দশক ধরে এখানকার লিচু বেশ সুনাম কুড়াচ্ছে। খেতেও সুস্বাদু। তবে এখন শুধু জাহাপুরেই নয়, আশপাশের অন্তত দশ-বারটি গ্রামে ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে লিচুর।
জানা গেছে, মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের জাহাপুর গ্রামের প্রায় মানুষেরই লিচুর বাগান রয়েছে। লিচু বাগান বা গাছ নেই, এমন একটিও বাড়ি খুঁজে পাওয়া যেন মুশকিল। প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও জমিতে রয়েছে লিচুগাছ।
উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের জাহাপুর, দপ্তরদিয়া, টেংরাকন্দি, মনোহরদিয়া, চর মনোহরদিয়া, খাড়াকান্দি ও মির্জাকান্দি গ্রামসহ পাশের ফরিদপুর সদরের চাঁদপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর ও চতরবাজার কান্দি গ্রামে গত প্রায় দুই যুগ ধরে লিচুর চাষ হচ্ছে। এখানে মোজাফফরপুরী জাতের লিচুর চাষ বেশি হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের সবুজ গুটি গুটি লিচু। অনেক গাছে থোকায় থোকায় শোভা পাচ্ছে লাল-সবুজ-গোলাপি রঙের লিচু। মে মাসের শেষে ও জুনের প্রথম সপ্তাহে গাছ থেকে পুরোদমে লিচু সংগ্রহ করা যাবে বলে জানিয়েছে লিচু চাষিরা।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, জাহাপুরে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৯-১০ টন লিচু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো দুর্যোগ না হলে গতবারের চেয়ে এবার ভালো ফলনের আশা চাষিদের।
জাহাপুরের লিচু বাগান মালিক আবদুস সাত্তার শেখ জাগো নিউজকে বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষে এলাকার চাষিদের দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে।
জাহাপুরের লিচু চাষি সুলতান আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, এবার বেশ ভালো লিচু ধরেছে। ফলন ভালো হবে বলেও আশাবাদী।
দস্তুরদিয়া গ্রামের শফিকুর রহমান শফিক জাগো নিউজকে বলেন, এ এলাকায় প্রায় আড়াইশ পরিবারের প্রত্যেকেই লিচু চাষ করেন। প্রত্যেক পরিবারেরই লিচু গাছ-বাগান রয়েছে। এখানকার লিচু বেশ সুস্বাদু। তাই কদরও বেশি। এবার মৌসুমের শুরু থেকেই খরা থাকায় ফলন কিছুটা কম হলেও লাভের আশা করছেন চাষীরা।
আরেক চাষী মো. আব্দুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে লিচু নিয়ে যায়। লিচুর মান ভালো হওয়ায় চাহিদাও বেশি। তাই এখানকার লিচু দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়।
বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়নের বড়গা বাজারের লিচু বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, লিচুতে এখনও পুরোপুরি পাক ধরেনি। পাকা লিচু পেতে আরও প্রায় ১০-১৫ দিন লাগবে।
লিচু কিনতে আসা ব্যবসায়ী রাজু মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, মৌসুমে দিনাজপুর, রাজশাহী ও ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন জায়গার লিচু বিক্রি করেছি। এখন আর দূরে যেতে হয় না। অন্য অঞ্চলে বড় আকারের মিষ্টি লিচু পাওয়া গেলেও জাহাপুরের লিচুর কিছু স্বকীয় বৈশিষ্ট রয়েছে। এ লিচুর রং ভালো, মান ভালো, খেতেও সুস্বাদু।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম বাচ্চু জাগো নিউজকে বলেন, লিচুর জন্য গ্রামটি এখন প্রায় দেশজুড়ে হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে আশপাশের প্রায় কয়েকশ একর জমিতেও এখন লিচু চাষ হচ্ছে। এখানকার লিচুর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে।
মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, এবার প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে সাধারণত ৯ টন লিচু উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি একশো লিচু গড়ে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে বিক্রি হলে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আয় হবে।
ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জিয়াউল হক জাগো নিউজকে বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে মধুখালী ছাড়াও বোয়ালমারী ও সদর উপজেলার চাঁনপুরে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ হচ্ছে। এ অঞ্চলের লিচুর মান খুব ভালো। ফলে চাহিদাও বেশি। দিনে দিনে আবাদ বাড়ছে। আগামী দিনে লিচুতেই ব্র্যান্ড হতে পারে ফরিদপুর।
এন কে বি নয়ন/এএইচ/এমএস