দেশজুড়ে

বাড়ির উঠানে পাঠদান, প্রচণ্ড গরমে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থী

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে খোলা আকাশের নিচে বাড়ির উঠানে। পুরাতন টিনের ঘর ভেঙে ফেলায় ও নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রখর রোদ আর দাবদাহে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গত মার্চ মাসে বিদ্যালয়ের পুরাতন টিনের ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাশে মুন্নু হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বাড়ির উঠানে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রখর খরা আর গরমের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে পাঠদানের ফলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী স্কুলে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের ১১০ নম্বর পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো ভবন বা শ্রেণিকক্ষ নেই। শিক্ষার্থীরা প্রচণ্ড খরা ও গরমের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে। স্কুলটিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৯৮ জন ছাত্র-ছাত্রী ও ৪ জন শিক্ষিকা ছিলেন। অন্যের বাড়ির উঠানে খোলা জায়গায় ক্লাস নেওয়ার পর থেকে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২০ জনের মতো শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশ নেয়।

এদিকে প্রচণ্ড দাবদাহে ক্লাস করে ছাত্র-ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখার পরিবেশ তৈরি না করে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়টি ভেঙে ফেলায় ও বাড়ির উঠানে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনার পাশাপাশি এ ধরনের হটকারি কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও জোর দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জাগো নিউজকে বলেন, স্কুলের একটি টিনের ঘর ছিল। তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। অন্যের বাড়ির উঠানে খোলা জায়গায় পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রখর খরা আর ভ্যাপসা গরমে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। লেখাপড়ার ক্ষতি হলেও তাদের শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি চিন্তা করে সন্তানদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।

এ ব্যাপারে আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয় সংলগ্ন আমার বাড়ি। বিদ্যালয়ে শুরু থেকে একটি পুরাতন টিনের ঘর ছিল। সেখানে নতুন একটি ভবন বরাদ্দ হয়েছে। এরইমধ্যে নতুন ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। যার কারণে পুরাতন টিনের ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্কুলের সব মালামাল আমি যত্ন সহকারে রেখে দিয়েছি। বিদ্যালয়ের পুরাতন কাঠ ও টিন দিয়ে আমার নিজস্ব খরচে একটি ঘর নির্মাণ করে দেব। এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা অস্থায়ীভাবে ক্লাস করবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা (ভারপ্রাপ্ত) লাভলী আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, শুরু থেকে বিদ্যালয়ে টিনের ঘরটিতে পাঠদান চলে আসছিল। ২০১৩ সালে স্কুলটি সরকারিকরণ হয়। ২০২২ সালে নতুন ৪তলা ভবনের ফাউন্ডেশন করে একটি একতলা ভবন বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত রমজান মাসে স্থানীয় চেয়ারম্যান স্কুলের পুরাতন ঘরটি ভেঙে ফেলে। যে কারণে অন্যের বাড়ির উঠানে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রচণ্ড খরা ও গরমে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। ৯৮ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন উপস্থিত হয়।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহসিন রেজা জাগো নিউজকে বলেন, আমি ভাঙ্গায় ফেব্রুয়ারি মাসে যোগদান করেছি। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। জানতে পেরে আমি এবং ইউএনও সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। কারো কাছ থেকে কোনো অনুমতি না নিয়ে এভাবে কেন পুরাতন স্কুল ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আজিমউদ্দিন বলেন, যতটুকু জেনেছি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান স্কুলের টিনের ঘরটি ভেঙে ফেলেছেন। তার নিজস্ব জায়গায় আরেকটি ঘর করে দেবেন। ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়ার কষ্ট হচ্ছে এটা ঠিক। আশাকরি আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে।

ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন বরাদ্দ হয়েছে। তবে স্কুলের পুরাতন টিনের ঘর ভাঙা ও গাছ বিক্রি করার বিষয়টি আমার জানা নেই।

এফএ/জেআইএম