দেশজুড়ে

মাটির নিচে শিবিরের আস্তানা : ৫৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যশোরে শিবিরের মাটির নিচে গোপন আস্তানা নির্মাণের ঘটনায় ৫৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বসুন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই ইসরাইল হোসেন বাদী হয়ে ৫৩ জনকে আসামি করে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় এ মামলা করেন। বৃহস্পতিবার ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও এ মামলায় চারজনকে আটক দেখানো হয়েছে। পরে শুক্রবার ভোরে আরো দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আর শিবিরের এই গোপন আস্তানা নির্মাণের খবর জানাজানি হওয়ায় শুক্রবার গোটা এলাকায় এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটকরা হলেন, যশোর সদরের গাইদগাছি এলাকার মিজানুর রহমান টিটো, কেফায়েতনগর গ্রামের আল আমিন, বসুন্দিয়া খোলাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস সালাম, বসুন্দিয়া বিনিময়পাড়ার আব্দুল ওয়াদুদ, জগন্নাথপুর গ্রামের আলী আকবর ডাক্তার ও ইলিয়াস হোসেন। কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, বসুন্দিয়ার ভৈরব নদের পাড়ে জামায়াত-শিবির বড় ধরনের নাশকতা পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে ভবনের নিচে গোপন ঘর তৈরি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই আস্তানায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। অভিযানকালে প্রাথমিকভাবে ১১ জনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি সেখান থেকে ১১টি বোমা ও তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার ভোর পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রেখে আরো দুইজনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে বসুন্দিয়া ফাঁড়ির এএসআই ইসরাইল হোসেন বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৫৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযানকালে আটক ১৩ জনের মধ্যে ছয়জনকে এ মামলায় আটক দেখানো হয়েছে। বাকি সাতজনকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরো জানান, ভবনের নিচে গোপন আস্তানা নির্মাণের ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে। জড়িতদের আটকের জন্য তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে স্থানীয়রা জানান, যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে জামায়াত অধ্যুষিত বসুন্দিয়া বাজার মোড়ে অবস্থিত ছাত্রশিবিরের আঞ্চলিক কার্যালয়। এর পেছনে দুইশ গজ দূরে ভৈরব নদের পাড়ে বাগানের মধ্যে চলছিল ওই ভবন নির্মাণ। একই সঙ্গে ওই ভবনের মাটির নিচে গোপনে নির্মাণ করা হচ্ছিল গোপন আস্তান। মাটির নিচে গোপন এই ঘর নির্মাণকে ঘিরে সেখানে বাইরের লোকদের আনাগোনা বাড়ছিল। ব্যাপরটি চোখে লাগে স্থানীয়দের। জানানো হয় পুলিশকে। এরপর পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে নিশ্চিত হয় জামায়াত-শিবির বড় ধরনের নাশকতা পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে গোপন আস্তানাটি তৈরি করছিল। আর যে জমিতে সেটা নির্মাণ করা হচ্ছিল তার মালিক ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি রাশেদ।এলাকাবাসী জানায়, বসুন্দিয়ার এ অঞ্চলটি জামাত-শিবিরের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া তুলনামূলক দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে জামায়াত স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ তাদের। আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতার অংশ হিসেবেই এটা তৈরি হতে পারে বলে সন্দেহ তাদের।মিলন রহমান/এআরএ/এমএস/এমএস