আইন-আদালত

বায়োমেট্র্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন নিয়ে হাইকোর্টে রুল

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে মোবাইল সিম নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।আগমী এক সপ্তাহের মধ্যে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও ডিজি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় পরিচয়পত্র উইংয়ের ডিজি, স্বরাষ্ট্র, আইন, ডাক তার ও টেলিযোগাযোগ সচিব, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল, সিটিসেল ও টেলিটক কর্তৃপক্ষকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ  এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিহউজ্জামান।তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. মোক্তাদির রহমান। এর আগে গত ৯ মার্চ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী এসএম এনামুল হকের পক্ষে আইনজীবী এমওয়াই মসিউজ্জামান ও গাজী এইচএম তামিম। মুক্তাদির রহমান জানান, এ রুল শুনানির জন্য ২৪ মার্চ দিনও ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।আইনজীবী মুক্তাদির রহমান আরও জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর বিটিআরসি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের জন্য ছয় মোবাইল কোম্পানীর প্রতি সার্কুলার জারি করে। মোবাইল কোম্পানীকে দিয়ে এটা বিটিআরসি করতে পারে না। সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের- (ক) প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হইতে স্বীয় গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার থাকিবে এবং (খ) চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার থাকবে।’তিনি আরো বলেন, এছাড়া টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০১ এর ৩১ ধারার মধ্যে এটা পড়ে না। তাই সংবিধান ও এ আইন মতে এটা বে-আইনি। বিটিআরসি মাত্র ২.৯৮ শতাংশ সিম নিয়ন্ত্রণ করেন। বাকী ৯৭.০২ শতাংশ বিদেশিরা নিয়ন্ত্রণ করেন। সুতরাং এখানে আমাদের নিরাপত্তা কী। আমরা বিদেশি বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ দিয়েছি। যেখানে আঙ্গুলের ছাপ অবৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত রয়েছে।আইনজীবী তখন বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরেন।এর আগে গত ১ জানুয়ারি থেকে যে কোনো সেলফোন গ্রাহক স্বপ্রণোদিত হয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করতে পারবেন বলে বিটিআরসি জানায়। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনের বাইরে থাকা অন্য সব সিমের নিবন্ধন বাধ্যতামূলকভাবে করতে হবে। ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।এফএইচ/এএইচ/এমএস