যশোরে নাশকতা মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ জেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের ২১ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন বাতিল করেছেন আদালত। তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে শুনানি শেষে যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জয়ন্তী রাণী দাস এ আদেশ দেন। এসময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা জামিন মঞ্জুরের দাবিতে স্লোগান দেন। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
কারাগারে পাঠানো অন্য নেতারা হলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য গোলাম রোজা দুলু, মিজানুর রহমান খান, কাজী আজম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পিসহ বিভিন্ন সদর উপজেলার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী। মামলার এজাহার ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ১৯ মে সন্ধ্যায় যশোর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শতদল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বিএনপির কর্মীসভা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশ সেখান থেকে ছয় নেতাকর্মীকে আটক করে। আর ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল, ইটের টুকরো ও লাঠিসোটা উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ।
এ ঘটনায় পরদিন শনিবার কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়বালা বাদী হয়ে নাশকতার অভিযোগ এনে ৪৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এতে জেলা বিএনপির ১১ শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। সেই মামলায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ২৪ নেতাকর্মী হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন।
রোববার দুপুরে ২১ নেতাকর্মী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিনের জন্য আবেদন করেন। আদালত সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ২১ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান জহির বলেন, গায়েবি নাশকতার মামলায় যশোর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় নেতারা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছিলেন। তারা এদিন যশোর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
হাসান জহির বলেন, জামিনের জন্য হাইকোর্টে আমরা আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
মিলন রহমান/জেডএইচ/