নাফ নদী সাঁতরে মিয়ানমার থেকে আসা বাচ্চা বন্যহাতিটি এখনো বনে ফেরানো যায়নি। সোমবার (৩ জুলাই) দুপুর থেকে মঙ্গলবার (৪ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত চেষ্টা করেও হাতিটি বনে ফেরাতে পারেননি বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
এ সময় হাতিটির আক্রমণে স্থানীয় এক ব্যক্তি আহত হন। আহত মুহাম্মদ নূর (৩৪) টেকনাফ নাইট্যংপাড়ার আবুল হাসিমের ছেলে।
জানা যায়, সোমবার (৩ জুলাই) সকালের দিকে ৮ মাস বয়সী প্রায় সাত ফুট উচ্চতার একটি বন্য হাতি মিয়ানমার থেকে নাফ নদী সাঁতরে টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ ঘোলারচর ঝাউবাগানে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে হাতিটি দেখতে এলাকায় লোকজনের ভিড় জমে।
বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটি বনে ফেরানোর চেষ্টা তরেন। ৪০ ঘণ্টা পার হলেও বাচ্চা হাতিটি বনে ফেরানো সম্ভব হয়নি। হাতিটি শাহপরীরদ্বীপ ঘোলারচরে অবস্থান করছে। হাতিটি বনে ফেরানোর চেষ্টা করতে গিয়ে হাতির আক্রমণে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
টেকনাফের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম জানান, মিয়ানমার থেকে আসা বাচ্চা বন্যহাতিটি এখনো শাহপরীরদ্বীপ ঘোলারচরে রয়েছে। হাতিটি আসার পর থেকে বনে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। হাতিটিকে খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। হাতিটি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে পার্কে অথবা বনে নিয়ে যাওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কক্সবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও-দক্ষিণ) সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, সোমবার সকালে মিয়ানমারের পাহাড়ি এলাকা থেকে নাফ নদীতে পানি খেতে এসেছিল হাতিরপাল। এ সময় হয়তো লোকজনের তাড়া খেয়ে বাচ্চা হাতিটি নাফ নদীতে নেমে পড়ে। এরপর সাঁতরে হাতিটি বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। হাতিটির বয়স আট মাস হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
বন কর্মকর্তা সরওয়ার আলম আরও জানান, সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে মঙ্গলবার বিকেলে জানতে পেরেছি বাচ্চা হাতিটি এখনো শাহপরীরদ্বীপ ঘোলারচর ঝাউবাগানে অবস্থান করছে। এটিকে বনে ফেরাতে বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের লোকজন কাজ করছে।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এএসএম