দেশজুড়ে

মশারি নিয়ে ছিন্নমূলের পাশে ‘টিম খোরশেদ’

বর্ষার শুরু থেকেই বেড়ে চলছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মানুষজন মারা যাচ্ছেন। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার দিক দিয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন ফুটপাতসহ বিভিন্ন জায়গায় শুয়ে থাকা ছিন্নমূল মানুষজন। যারা সাধারণত টাকার অভাবে মশারি কিনতে পারেন না।

তাই রাতের আঁধারে ছিন্নমূল মানুষের পাশে মশারি নিয়ে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জের টিম খোরশেদ। রাতের গভীরে যখন অসহায় মানুষজন মশারি ছাড়া ফুটপাতে ঘুমাচ্ছিলেন তখন তাদের হাতে মশারি তুলে দেন। একই সঙ্গে মশারি টানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

সোমবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১২টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া রেলস্টেশন, কালীবাজার রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও সেন্ট্রাল খেয়াঘাটসহ রাস্তার ফুটপাতে শুয়ে থাকা ছিন্নমূল মানুষের মাঝে প্রায় কয়েক শতাধিক মশারি বিতরণ করেন।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে ভর্তি ৭

ফাতেমা নামে এক অসহায় নারী বলেন, আমার মশারি কেনার সামর্থ্য ছিল না। স্বামী আমাদের সাথে থাকে না। কোনো মতে দুইজন ছেলে মেয়েকে নিয়ে স্টেশনে ঘুমাই। বাচ্চারা মশার কামড়ে ঘুমাতে না পারলেও কোনো উপায় ছিল না। এই মশারি পেয়ে খুবই উপকার হলো। যিনি এই মশারি দিয়েছেন তার জন্য দোয়া করি।

টিম খোরশেদের সমন্বয়ক ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জাগো নিউজকে বলেন, সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আমরা মানবিক সংগঠন টিম খোরশেদের পক্ষ ছিন্নমূল মানুষের সুরক্ষার জন্য মশারি বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি। নারায়ণগঞ্জের প্রত্যেকটি স্পটে গিয়ে আমরা এই মশারি বিতরণ করবো। ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই উদ্যোগে আশা করি কাজে দিবে।

আরও পড়ুন: ‘জ্বরে যখন ছেলে কান্না করে সহ্য করতে পারি না’

তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। এই ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের নিজেদেরও সচেতন থাকতে হবে। সিটি করপোরেশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো রাস্তাঘাটে ড্রেনেজে মশার ওষুধ স্প্রে করে। কিন্তু বাড়িঘরে মশা মারার দায়িত্ব আমাদের নিজেদের। আমরা যদি নিজেরা সচেতন থাকি তাহলে এই ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যাবে।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/জেএস/জেআইএম