ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন এক যুবদল নেতা।
সদ্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম পান্নুকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার বাবা আক্কাস শেখ ওই ইউনিয়নের কৃষক দলের সাবেক সভাপতি। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে বুধবার (১৯ জুলাই) বিকেলে এক সম্মেলনের মাধ্যমে জেলার নেতারা আগামী ৩ বছরের জন্য সভাপতি হিসেবে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জেল হোসেনকে সভাপতি এবং আরিফুল ইসলাম পান্নুকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, যুবদলকর্মী নিহতের দাবি বিএনপির
এ ব্যাপারে নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমাস বলেন, আরিফুল ইসলাম পান্নু ইউনিয়ন যুবদলের একজন সক্রিয়কর্মী ছিলেন। যদিও তার কোনো পদ পদবী ছিল না। তবে তাকে কখনও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে দেখিনি। পান্নুর বাবা আক্কাস শেখ ইউনিয়ন কৃষক দলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তাদের পুরো পরিবারই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রঞ্জু মোল্লা বলেন, নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক পান্নু তিনি ফরিদপুরেও থাকেন না। বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকেন। তিনি একজন আদম ব্যবসায়ী। তিনি ও তার পরিবার কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি কিভাবে হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও নতিন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব মৃধা বলেন, বিএনপি করেও আওয়ামী লীগ নেতা হওয়া যায়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন নেতা নির্বাচন দলের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।
এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম পান্নুর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: বিএনপির লিফলেট বিলিতে আওয়ামী লীগের বাধা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া
এ বিষয়ে কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্ল্যা বলেন, আরিফুল ইসলাম পান্নু দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। তিনি অন্য কোনো দলের সঙ্গে বা কখনও কোনো পদ পদবীতে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে তার বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। একই পরিবারে ভিন্ন মতাদর্শের লোক থাকতেই পারে। যারা সাধারণ সম্পাদক হতে পারেনি তারাই এর বিরোধিতা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
এন কে বি নয়ন/জেএস/জেআইএম