রাজধানীতে বিএনপির মহাসমাবেশ কেন্দ্র করে পুলিশের তল্লাশি আর হয়রানি এড়াতে রাতেই ঢাকা চলে গেছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) দিনগত রাত ১টার পর থেকেই নয়াপল্টন এলাকার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে মহাসমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি। আর এই মহাসমাবেশ কেন্দ্র করে সারাদেশের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। নারায়ণগঞ্জ থেকেও বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এই মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন।
তবে বিএনপির এই মহাসমাবেশ কেন্দ্র করে গত দুইদিন আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জে নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ও আটকের খবর পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে গত কয়েকদিনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতেও মহানগর সেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আবুল কাউসার আশাসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশির খবর পাওয়া গেছে। তাই গ্রেফতার এড়াতে রাতেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ঢাকায় চলে গেছেন। যদিও পুলিশ বলছে, এটা তাদের নিয়মিত অভিযান। বিশেষ কোনো অভিযান নয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি অভিযান চলছে। আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে ধরেও নিয়ে গেছে। আমার জানামতে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের নামে কোনো মামলা কিংবা ওয়ারেন্ট ছিল না। আমাদের মহাসমাবেশে যেন লোকজন কম হয় সেজন্য এই ধরপাকড় করা হচ্ছে। তবে আমাদের নেতাকর্মীদের কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবে না। যে কোনো উপায়েই হোক আমরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবো।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের মহাসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য সরকার বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বিএনপির যে কোনো কর্মসূচির আগেই পুলিশ সদস্যরা নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে থাকে। আমাদের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখায়। নেতাকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তবে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আগেই ঢাকা চলে গেছে। তাদের আটকে রাখা যায়নি।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘বিএনপির কর্মসূচির সময়ে প্রত্যেকবারই নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি চলে। এটা পুলিশের নিয়মিত কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এভাবে অন্যায়ভাবে আটক-গ্রেফতার করা গণতন্ত্রের মধ্যে পড়ে না। এসব কাজ করে প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আর আটক-গ্রেফতার করে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। আমাদের নেতাকর্মীদের অনেকেই ঢাকা চলে গেছে।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) চাইলাউ মারমা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের বিশেষ কোনো অভিযান নেই। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল টিম গিয়ে থাকে। সেইসঙ্গে তারা পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করবে। এটা বিশেষ কোনো অভিযান না। এটা আমাদের নিয়মিত কাজ।’
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এমআরআর