দেশজুড়ে

অপারেশনের পর মৃত্যুশয্যায় রোগী, ছিঁড়ে গেছে একাধিক অর্গান

 

যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বর্ষা খাতুন (২০) নামের এক প্রসূতি অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

বর্ষা খাতুন বেনাপোল পোর্ট থানার রঘুনাথপুর গ্রামের শহিদুল্লাহ মল্লিকের স্ত্রী।

ভুক্তভোগীর স্বামী শহিদুল্লাহ মল্লিক জানান, তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে রঘুনাথপুর হাটখোলার একজন পল্লিচিকিৎসকের পরামর্শে সেবা ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে আসছিলেন। তাকে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন রনজু আহমেদ নামের কথিত একজন চিকিৎসক। সোমবার (৩১ জুলাই) রাতে বর্ষা খাতুনের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে সেবা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন ডা. সন্দিপ পাল।

মঙ্গলবার রোগীর অবস্থার অবনতি হলে রাতেই রোগীর স্বজনরা তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জানানো হয়, রোগী অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন। তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় অপারেশন করে আইসিইউতে পাঠানো হয়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট মনিরুজ্জামান লর্ড বলেন, অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন ওই রোগী। তার পেটের একাধিক অর্গান ছিড়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার প্লিহা কিছুটা কেটে বাদ দিতে হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাভারণের সেবা ক্লিনিকে রনজু আহমেদ নামে যে ব্যক্তির কাছে বর্ষা চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন তিনি আদতে চিকিৎসক না। তিনি নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ লিখে রোগী দেখে আসছেন। ডিগ্রি ব্যবহার করছেন ‘ডিএমএফ’। অথচ সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নামের আগে ‘ডাক্তার’ ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই এমবিবিএস ডিগ্রি থাকতে হবে।

ওই প্রতিষ্ঠানে কোনো অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক নেই। অস্ত্রোপচার কক্ষে ওটি বয় রোগীকে অজ্ঞান করেন। প্রতিষ্ঠানের প্যাথলজি রিপোর্টে কোনো কনসালট্যান্ট বা মেডিকেল অফিসারের সই নেই। রিপোর্ট ছাড়ছেন এমএকেএসকে সুমন নামের ল্যাব টেকনোলজিস্ট।

এ বিষয়ে সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক নাসিম রেজা বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে কোনো অপচিকিৎসা হয়নি। রোগীর স্বজনরা তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র না নিয়েই সরকারি হাসপাতালে চলে গেছেন।

কথিত রজনু আহমেদ তার প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখেন কি না জানতে চাইলে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে ফোন রেখে দেন।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, তাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ওই প্রতিষ্ঠানে আগেও একবার অভিযান পরিচালনা করে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। রোগীর পরিবার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামাল হোসেন/এসআর