অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস’র (আসিয়ান) দেশগুলোর মধ্যে ভালো বোঝাপাড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ নিরসন করা সম্ভব বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) ঢাকায় রয়েল থাই দূতাবাসে ৫৬তম আসিয়ান দিবস উদযাপনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আসিয়ান ঢাকা কমিটির (এডিসি) প্রধান ফিলিপিন্সের রাষ্ট্রদূত লিও টিটো এল অওসান, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হিরু হারতান্তো সুবোলোও বক্তব্য দেন।
এ সময়ে আসিয়ানের সব সদস্য ও জনগণকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যাপক বৈচিত্র্য, উন্নত সংস্কৃতি ও সীমাহীন ঐতিহাসিক তাৎপর্যের প্রতিনিধিত্ব করছে আসিয়ান। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আঞ্চলিক সহযোগিতা, শান্তি-স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি লালন করে আসছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ জোট।
আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আসিয়ানের সামগ্রিক বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। বস্ত্র, ওষুধ, তথ্য প্রযুক্তি, কৃষি, সমুদ্র অর্থনীতি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজে বের করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি।
শান্তিপূর্ণ উপায় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতভেদ দূর করতে আসিয়ানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন আব্দুল মোমেন। তিন বলেন, দেশগুলোর মধ্যে ভালো বোঝাপাড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ নিরসন করা সম্ভব।
আসিয়ান কমিউনিটির মূল্যবোধ ও বৈশ্বিকভাবে এ জোটের গঠনমূলক ভূমিকাকে বাংলাদেশে খুবই গুরুত্ব দেয় বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, জলবায়ু পরিবর্তনের বৈরী প্রভাব ও করোনা মহামারির মতো বৈশ্বিক প্রতিকূলতা মোকাবিলায় জোটের ঐক্য ও সংহতির প্রতিও জোর দেন তিনি।
আসিয়ানের দেশগুলোর অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানে বহুপাক্ষিকতা ও আঞ্চলিকবাদ জোরদার করতে আসিয়ানের কার্যকরও জোরালো অঙ্গীকারের কথা স্বীকার করেন তিনি। সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনে আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো ও ঐকমত্যের নীতিতে অটল থাকার ওপর নির্ভর করছে আসিয়ানের সফলতার ভিত্তি। বাংলাদেশও এ মূল্যবোধ লালন করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পৃক্ততায় আমাদের নিজস্ব নীতি রয়েছে।
আইএইচআর/এমআইএইচএস/এমএস