দেশজুড়ে

ছোটমণি নিবাসে ঠাঁই হলো মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সেই সন্তানের

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর গর্ভে জন্ম নিয়েছে একটি ছেলে। নবজাতকের মা তাকে ফেলে চলে যাওয়ার ২২ দিন পর অভিভাবকহীন নবজাতকটিকে শনিবার (১৯ আগস্ট) ছোটমণি নিবাসে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নবজাতকের মা মানসিক প্রতিবন্ধী। সন্তান জন্মদানের কয়েক ঘণ্টা পর তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। কয়েকদিন পর মানসিক প্রতিবন্ধী ওই মা ফের হাসপাতালে এসে শিশুটিকে বুকের দুধ পান করিয়ে আবার চলে যান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। অবশেষে নবজাতক শিশুটির ঠাঁই হয়েছে রাজধানীর আজিমপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছোটমণি নিবাসে।

আরও পড়ুন: সুপেয় পানির সংকটে ‘ছোটমণি নিবাস’

গাজীপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্র জানায়, শিশুটির মানসিক প্রতিবন্ধী মা লিপি (৩০) গত ২৭ জুলাই প্রসব বেদনা নিয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দউন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের লোকজন তাকে পরীক্ষা করে মা ও শিশু ওয়ার্ডে নিয়ে যায়। সেখানে ২৮ জুলাই একটি ছেলে ভূমিষ্ঠ হয়। কয়েক ঘণ্টা পর মানসিক প্রতিবন্ধী মা শিশুটিকে হাসপাতালে রেখে বের হয়ে যান। পরে অনেক দিন ওই মানসিক প্রতিবন্ধী মায়ের কোনো খোঁজ ছিল না। মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তিনি শিশুটিকে দেখতে আর শিশুর কাছে আসেননি। হঠাৎ ২ আগস্ট একদিন হাসপাতালে এসে নবজাতকটিকে বুকের দুধ পান করিয়ে আবার চলে যান।

গাজীপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম আনোয়ারুল করিম জানান, শিশুটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য বিষয়টি গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে জানানো হয়। পরে তিনি গাজীপুর জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভা আহ্বান করেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যেহেতু শিশুটির মা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তার বাবার কোনো পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না। তাই শিশুটিকে রাজধানীর আজিমপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ছোটমণি নিবাসে পাঠানো হবে। পরে শিশুটিকে পুলিশের মাধ্যমে সেখানে শনিবার দুপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, শিশুটি ছোটমণি নিবাসে থাকাকালে ভবিষ্যতে যদি মা সুস্থ হন, তাহলে তিনি তার সন্তান ফিরে পাবেন। তাছাড়া সমাজের অন্য কোনো দায়িত্ববান ব্যক্তি যদি শিশুটির দায়িত্ব নিতে চান তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় নিতে পারবেন।

মো. আমিনুল ইসলাম/আরএইচ/জেআইএম