জাতীয়

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক আচরণের পরিবর্তন জরুরী

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক আচরণ পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিগডি) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক অর্থনীতি, জবাবদিহিতা এবং শাসনব্যবস্থা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, আর্থিক নীতি প্রণয়নে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জরুরি, যা সরাসরি উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সামাজিক ন্যায়বিচার বা সমাজ কল্যাণে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক আচরণ পরিবর্তন করতে হবে।সেমিনারে ‘অকার্যকর শাসন ব্যবস্থায় উন্নয়নমূলক কল্যাণ রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং ‘দক্ষিণ এশিয়ার শাসন ব্যবস্থা কোন দিকে?’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক কুনাল সেন।ড. মসিউর রহমান বলেন, গণমাধ্যম সরকারের কাজের সমালোচনা করলে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। এতে জনগণ ক্ষমতাসীনের কাজ বিচার করার সুযোগ পায়।অনুষ্ঠানে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ রাজনৈতিকভাবে সচেতন। সরকার নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তার জবাবও কঠিন হয়ে থাকে। সামাজিক সূচকগুলোর উন্নতিতে বেশ সাফল্য অর্জিত হলেও বাংলাদেশে মানবাধিকার তথা নাগরিকের মৌলিক অধিকার খুবই নিম্নমানের।কানাডিয়ান হাইকমিশনের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স ব্রিয়ান আলেমেকিন্ডারস বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সুশাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে দুর্নীতি বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে উন্নয়ন প্রক্রিয়া তরান্বিত হচ্ছে। তবে সুশাসন নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।রেহমান সোবহান বলেন, রাজনৈতিক অর্থনীতির মাধ্যমে সরকার গঠন প্রক্রিয়া এবং সরকারের সব কাজের জাবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়ে থাকে। দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তর করার নীতি প্রণয়ন করা সরকারের দায়িত্ব।এম. এম. আকাশ বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং কৃষি খাতের অবদান অনেক বেশি। দেশে ব্যাংকিং খাতে ৫৭ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে, সুইস ব্যাংকে চলে গেছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। তারপরও বিস্ময়করভাবে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর সৈয়দ সাদ আন্দালিব বলেন, বাংলাদেশে সুশাসনের ব্যাপক অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যেসব নির্দেশক কাজ করে তাও তেমন সক্রিয় নয়। এর বাস্তবায়নও ন্যূনতম সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই।