দেশজুড়ে

টেকনাফে বন পাহারা দলের তিন সদস্যকে অপহরণ, ৬০ লাখ টাকা দাবি

কক্সবাজারের টেকনাফে বন পাহারা দলের তিন সদস্যকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। তাদের ফেরত দিতে অপহরণকারীরা ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের একদিন পার হলেও তাদের উদ্ধার সম্ভব না হওয়ায় পরিবারে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

অপহৃতরা হলেন- টেকনাফের দমদমিয়া এলাকার মো. বকসু মিয়ার ছেলে মো. আব্দুর রহমান (৩৭) একই এলাকার আব্দু মালেকের ছেলে মো. শাকের আলী (২৪) ও মো. আব্দুর রহিম (৪০)।

টেকনাফ রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম জাগো নিউজকে জানান, শুক্রবার বন পাহারা দলের (সিপিজির) তিন সদস্য দমদমিয়া নেচার পার্ক সংলগ্ন পাহাড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সন্ধ্যায় তারা বাড়িতে ফেরত না এলে আমরা তাদের খুঁজতে শতাধিক লোকজন নিয়ে পাহাড়ের ভেতর গিয়েও পাইনি। শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে গেলেও তাদের সন্ধান মেলেনি। অপহৃত ভিকটিমদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ফেরত পেতে হলে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে অপহরণকারীরা। টাকা না দিলে তাদের হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী মেম্বার জাগো নিউজকে জানান, সিপিজির তিন সদস্য অপহরণের ঘটনায় আমরা লোকজন নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই পাহাড়ে তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছি। একদিন অতিক্রম হলেও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বন পাহারাদার অপহরণের শিকারের সাধারণ মানুষ অপহরণ আতঙ্কে আছি। টেকনাফের এ অংশে দিনের পর দিন অপহরণের ঘটনা বাড়ছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জাগো নিউজকে বলেন, দমদমিয়া নেচার পার্কের পাহাড় থেকে অপহৃত সিপিজির তিন সদস্যকে উদ্ধারে আমরা কাজ করছি। সন্ধ্যার পরও পাহাড়ে পুলিশের একাধিক টিম আছে।

টেকনাফে এ পর্যন্ত শতাধিক অপহরণের ঘটনায় দেড় শতাধিক লোক অপহরণকারীর কবলে পড়েছেন। যারা মুক্তিপণ দিতে পেরেছেন তারা ফেরত আসতে পেরেছেন। মুক্তিপণ দিতে না পেরে এক টমটম (ইজিবাইক) চালকসহ ছয়জন খুন হয়েছেন। অপহরণকারীদের নির্মূলে যৌথ ও সাড়াশি অভিযান দাবি করেছেন স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/জেআইএম