আইন-আদালত

সামাজিকভাবে হেয় করতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা: শুনানিতে আইনজীবী

সামাজিকভাবে হেয় করতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। অপরদিকে কলকারখানা অধিদপ্তরের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলছেন, নোবেল অর্জনের বিষয়টি সামনে এনে মামলার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছেন ড. ইউনূসের আইনজীবী। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন এ কথা বলেন দুই আইনজীবী।

এদিন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।

মামলায় অন্য তিন আসামি হলেন গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও শাহজাহান। প্রথম সাক্ষীর জেরার কার্যক্রম তৃতীয় দিনের মতো হয়। এদিন জেরা শেষ না করে তা মুলতবি করেন আদালত। ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা বুধবার এ আদেশ দেন।

আদালতের শুনানিতে ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। সময় গ্রামীণ টেলিকমের আইনজীবী এবিএম ফজলুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

ড. ইউনূসের আইনজীবীর দাবি, মামলা দ্রুত শেষ করতে তাড়াহুড়ো করে ইউনূসকে দণ্ডিত করতে চায় সরকার। এছাড়া বিশ্বে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে কলকারখানা অধিদপ্তরে মামলা করা হয়েছে।

অভিযোগ করে ইউনূসের আইনজীবীর বলেন, শ্রমিক কাজ করেন প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুলে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। যা শ্রম আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এদিকে, কলকারখানা অধিদপ্তরের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, নোবেলজয়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো বিচার হচ্ছে না। তাই তাকে টার্গেটের বিষয়টা সমনে এনে বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।

এদিন, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় তার জামিন বাতিল চেয়ে আর্জি জানিয়েছেন কলকারখানা অধিদপ্তরের আইনজীবী। একই সঙ্গে ইউনূসকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আদেশও বাতিল চাওয়া হয়।

এর আগে বুধবার সকালে ড. ইউনূসকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তুলে কলকারখানা অধিদপ্তরের সাতজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন গ্রামীণ টেলিকমের আইনজীবী। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মামলার প্রথম সাক্ষী কলকারখানা অধিদপ্তরের শিল্প পরিদর্শক তরিকুল ইসলামের জেরা মুলতবি করেন বিচারক।

গত ২২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওইদিন সাক্ষ্য দেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম। এরপর তার আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণের পর ৩১ আগস্ট ফের সাক্ষ্যর জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সকালে সাক্ষীর বাবা মারা যাওয়ায় বাকি সাক্ষ্যগ্রহণ আর অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে ৫ সেপ্টেম্বর জেরা হয়। ওইদিন শুনানি ও জেরা শেষে আবারো জেরা হলো।

এর আগে ৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন আদালত। মামলার চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার মধ্যদিয়ে শুরু হয় বিচার।

কিন্তু এ মামলার অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ড. ইউনূস হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। হাইকোর্ট সে আবেদন খারিজ করার পর তার বিরুদ্ধে আপিল করেন আইনজীবীরা। আপিল আবেদনেও হাইকোর্টের সেই খারিজ আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর নিয়ম অনুযায়ী বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানার আদালতে ২২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহন শুরু হয়।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে এ মামলা করেছিলেন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে পারেন। এর মধ্যে ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি। শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি।

এদিকে ৩০ মে ড. ইউনূসকে প্রধান আসামি করে আরও ১২ জনের নামে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন।

এফএইচ/জেডএইচ/এএসএম