বরাবরের মতো উইন্ডোজ সফটওয়্যার পাল্টে দিতে চাইছে মাইক্রোসফট। প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলার এ বিশাল পদক্ষেপ তাকেই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কারণ উইন্ডোজ সার্বিকভাবে বদলে দেয়ার কাজটি খুব একটা সহজ নয়। মাইক্রোসফটের ডেভেলপাররা তৈরি করেছেন ইউনিভার্সাল উইন্ডোজ প্লাটফর্ম অথবা ইউডব্লিউপি। এ উইন্ডোজ তারা ছড়িয়ে দিতে চাইছেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ডিভাইসগুলোয়। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোয় অনুষ্ঠিত হলো গেম ডেভেলপার্স কনফারেন্স। সেখানে অনেক আলোচনা হয় ইউডব্লিউপি নিয়ে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ ডেভেলপারদের জন্য মাইক্রোসফট আয়োজন করতে যাচ্ছে বিল্ড সম্মেলন। তখন আরো একবার লাইমলাইটে আসবে ইউডব্লিউপি। কিন্তু এই ‘ইউডব্লিউপি’ বিষয়টি আসলে কী?ইউনিভার্সাল উইন্ডোজ প্লাটফর্মের পেছনের মৌলিক ধারণাটা খুবই সাধারণ। শুধু একবার এ অ্যাপ রাইট করে নিলে যেকোনো উইন্ডোজ ১০ ডিভাইসে চালানো যাবে আজীবন। এ সুবিধা মিলবে পিসি, ট্যাবলেট, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে। হলোলেন্স ও এক্সবক্স ওয়ান ভিডিও গেমও এ তালিকা থেকে বাদ পড়ছে না। নতুন এ উইন্ডোজ কাজ করতে শুরু করলে এটি সফটওয়্যার নির্মাণ পদ্ধতিকে একেবারে পাল্টে দেবে। কিন্তু অনেকেই এ ইউনিভার্সাল উইন্ডোজ প্লাটফর্ম পছন্দ করতে পারছেন না। মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান নির্বাহী স্টিভ বলমার ইউডব্লিউপি গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে লাগবে না বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রতিভাধর গেম ডেভেলপার টিম সুইনির মতে, মাইক্রোসফটের যাবতীয় কর্মকাণ্ডে ইউডব্লিউপি তৈরিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় আগ্রাসিতা।এখন প্রশ্ন হচ্ছে মাইক্রোসফট কেন নতুন ধরনের অ্যাপটি চাইছে? পিসির জন্য অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজের জনপ্রিয়তা আজো কমেনি। কিন্তু স্মার্টফোন বিপ্লবের কারণে বিশ্বব্যাপী অ্যান্ড্রয়েডও কম জনপ্রিয় নয়। অন্যদিকে অ্যাপলের আইওএস ডিভাইসও ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। এ কারণে স্মার্টফোনেই ইউডব্লিউপি ছড়িয়ে দিতে উদগ্রীব ডেভেলপাররা।মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ফোন ব্যবসা রয়েছে। কিন্তু এটি সেভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। তাই প্রতিষ্ঠানের ডেভেলপাররা তাদের অ্যাপ এ প্লাটফর্মে আনতে নারাজ। আর ডেভেলপাররা নিত্যনতুন অ্যাপ যোগ না করায় ক্রেতারাও ঝুঁকছেন না উইন্ডোজ ফোনে। অ্যাপল, গুগল ট্যাবলেট উন্মোচনের মাধ্যমে তাদের অ্যাপের যথাযথ মূল্যায়ন করছে। এ অ্যাপগুলো পিসিতেও ব্যবহারযোগ্য। কিন্তু এসব অ্যাপ মানুষ হ্যান্ডসেটে ব্যবহার করতেই বেশি পছন্দ করেন, সবাই এগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহালও। অ্যাপল আইপ্যাড প্রো অথবা গুগল পিক্সেল সি’র মতো ডিভাইসগুলো ল্যাপটপের মতো যথাযথ উপায়ে ব্যবহার সম্ভব না হলেও সময় এক্ষেত্রে বড় একটি বিষয়। কারণ এখন বেশির ভাগ মানুষই ল্যাপটপ বা পিসির তুলনায় বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে স্মার্টফোনকে। এখানেই পিছিয়ে যাচ্ছে মাইক্রোসফট। ইউডব্লিউপির অধীনে ডেভেলপাররা একটি অ্যাপ তৈরি করতে পারলে সেটা কোনো রকম জটিলতা ছাড়াই অন্য উইন্ডোজ ১০ সংবলিত ডিভাইসে পাঠাতে পারবেন।এখনো সবাই মাইক্রোসফটের পুরনো প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত। আধুনিক ডিভাইসের টাচ স্ক্রিনে সব কাজ সারতে প্রস্তুত নন তারা। ইউডব্লিউপি স্মার্টফোন, ট্যাবলেটে যেমন কাজ করবে, তেমনি পিসিতেও চলবে সাবলীলভাবে। মাইক্রোসফটের ডেভেলপাররা একবার উইন্ডোজ ১০ পিসি ও ট্যাবলেটে থাকা অ্যাপগুলো ইউডব্লিউপির মাধ্যমে তৈরি করতে পারলে পরবর্তীতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই উইন্ডোজ ১০ মোবাইল স্মার্টফোনের পাশাপাশি এক্সবক্স ওয়ানে চালানো সম্ভব হবে। হলোলেন্সের ক্ষেত্রেও খাটবে একই কথা। ফলে প্রতিটি ডিভাইসই ডেভেলপারদের জন্য হবে তাদের তৈরি সফটওয়্যার বিক্রির সুযোগ।নাদেলা বলছেন, উইন্ডোজ ও উইন্ডোজ ১০ একটি প্রতিপত্তিশালী ধারণা। এটি একটি অ্যাপ্লিকেশন প্লাটফর্ম, ডেভেলপারদের জন্য স্টোর। সব উইন্ডোজে চালানো যাবে বলে ইউডব্লিউপিতে আগ্রহী হবেন ডেভেলপাররা। উইন্ডোজ ১০-এর গ্রাহকরাও সুবিধা পাবেন ইউডব্লিউপির মাধ্যমে। এটাই এখন নাদেলার স্বপ্ন!এসএইচএস/আরআইপি