গাজীপুরের কালীগঞ্জে শিশু ঐশি মন্ডল হত্যার ছয় মাস পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আপন মামা। মরদেহ বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেন।
সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ সব তথ্য জানিয়েছেন কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উখিং মে।
তিনি বলেন, পুলিশ তদন্তকালে জানতে পারে মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন আগে ঐশি নিখোঁজ হয়। তবে পরিবারের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ঐশির মা তার সাবেক স্বামী সেন্টু মন্ডল ও তার মায়ের বিরুদ্ধে আদালতে অপহরণ মামলা করেন। যে কারণে বিষয়টি থানা পুলিশের জানা ছিল না।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঐশির বাবা সেন্টু মন্ডলের সঙ্গে মা বিমা রাণী দাসের পাঁচ বছর আগে বিচ্ছেদ হয়। ঐশির মৃত্যুর আড়াই মাস আগে বিমা রাণী দাস সন্যাসী কুমার সাহা নামের একজনকে বিয়ে করে উপজেলার জামালপুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে দুজনই একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। আর ঐশির মায়ের ফুফু অঞ্জলি রাণী বিশ্বাস নিঃসন্তান হওয়ায় তার কাছেই বড় হচ্ছিল। নিজের সন্তানের মতোই তাকে লালন-পালন করছিলেন অঞ্জলি রাণী। তার সম্পত্তি ঐশিকে লিখে দিতে চেয়েছিলেন। ঐশির মামা বিজয় চন্দ্র বিশ্বাস সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে খালু অসিত চন্দ্র মিস্ত্রির সহযোগিতায় ২২ মার্চ সকালে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। মরদেহ একটি বস্তায় ভরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় স্থানীয় একটি পুকুরে ফেলে দেন।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, মামা ও খালুকে পুলিশ কালীগঞ্জ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এছাড়া খালু রোববার দুপুরে দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন। গ্রেফতার মামাকে সোমবার সকালে গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এসজে/এএসএম