ধর্ম

যক্ষ্মা নয়, মৃত্যু নয়, মাদকমুক্ত জীবন চাই

যক্ষ্মা নয়, মৃত্যু  নয়, মাদকমুক্ত জীবন চাই। মানুষের জীবন একটাই। মৃত্যুও সুনিশ্চিত। কুরআন ও সুন্নাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ মাদকমুক্ত জীবন গড়ে সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন সবার কাম্য। দুনিয়ার সভ্য ও সুশীল সমাজ আজও বলতে বাধ্য হচ্ছে মাদককে এড়িয়ে চলুন এবং সভা-সমাবেশ র্যা লি করে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।‘ঐক্যবদ্ধ হলে সবে যক্ষ্মা মুক্ত দেশ হবে’ প্রতিপাদ্যে প্রতি বছরের ন্যায় ২৪ মার্চ (আজ) পালিত হচ্ছে পৃথিবীব্যাপী বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। যার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে মহামারী যক্ষ্মা থেকে আত্মরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। মাদক এক ভয়াবহ ব্যাধি। এমন কোনো অপকর্ম নেই যে, এ ব্যাধিতে আক্রান্তরা তা করতে পারে না। মাদকাসক্ত ব্যক্তি পেটে খাদ্যদ্রব্য পড়ল কিনা, সেটি নিয়ে ভাবে না বরং মাদক গ্রহণ করতে পারলো কিনা সেটিই হয়ে ওঠে তাদের নিকট মূল বিষয়। সুতরাং মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত থাকে। জড়িয়ে পড়ে নানা রকম সামাজিক অপরাধে। মাদকের টাকার জন্য চুরি, ছিনতাই এমনকি খুন করতেও তাদের হাত কাঁপে না। যে কোনো কিছুর বিনিময়ে তারা মাদক পেতে চায়। আর মাদকের প্রভাবেই বেড়ে চলেছে যক্ষ্মাসহ নানাবিধ জটিল এবং কঠিন মরণ ব্যাধির প্রকোপ।আল্লাহ তাআলা মাদক গ্রহণে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন, আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ কিছু নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শুত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখনও কি নিবৃত্ত হবে? (সুরা মায়েদা ৯০-৯১)মাদক মুক্ত থাকার উপায়...মাদক গ্রহণের ফলে যক্ষ্মাসহ জটিল ও কঠিন মরণ ব্যাধিতে মানুষ আক্রান্ত হয়। তা থেকে আত্মরক্ষায় রয়েছে কুরআন ও সুন্নাহ সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং সুশীল ও জনসচেতনতামূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। যাদের সভা-সমাবেশ, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, পারিবারিক প্রচেষ্টা, ধর্মীয় অনুশাসন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ইতিবাচক কর্মকাণ্ড।পরিবারে পিতা মাতা সন্তানকে ধর্মীয় অনুশাসনে বড় করার পাশাপাশি অন্যায় ও নিষিদ্ধ জিনিসের ভয়াবহতা সম্পর্কে তাঁদেরকে অবহিত করা আবশ্যক করণীয়। এক্ষেত্রে বাবা-মার সচেতনার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অনেকে বাবা ক্ষেত্রবিশেষ অনেক মাও ধূমপান করেন। যা দেখে সন্তান তার মা-বাবার অজান্তেই ধূমপানের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়।বিশেষ করে মাদকের সহজলভ্যতা, মাদকের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ ব্যবহার না থাকা, রাষ্ট্রীয় মনিটরিংয়ের অভাবে দিন দিন মাদক অপরাধ বেড়েই চলছে। যার ভয়াবহ পরিণতি বহন করছে দেশের তরুণ সমাজ। সুতরাং রাষ্ট্রীয়ভাবে শুধুমাত্র বছরের একটি দিনকে দিবস হিসেবে পালন করে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টার বিপরীতে সব সময় গণমাধ্যমে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরা আবশ্যক।দেশের প্রত্যেকটি মসজিদের ইমাম ও খতিবদের মাধ্যমে কুরআন ও হাদিসের দৃষ্টিতে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরা।উন্মুক্ত জায়গায় ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ বন্ধ রাখা। পাশাপাশি সুন্দর পরিবেশ সংরক্ষণ করা দেশের প্রতিটি নাগরিকর নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব।পরিশেষে...মাদকমুক্ত জীবন পরিহার করে যক্ষ্মাসহ নানাবিদ জটিল ও কঠিন মরণব্যাধি থেকে আত্মরক্ষায় দেশের প্রতিটি মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এগিয়ে আসা একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা সবাইকে মাদকমুক্ত জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন। আমিন।এমএমএস/এবিএস