স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। গ্রামীণ সমাজ কাঠামোতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপান্তর ঘটেছে। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে এখন মঙ্গার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মতিঝিল বিসিআইসি মিলনায়তনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুষেণ চন্দ্র দাস, বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল, বিসিক চেয়ারম্যান হযরত আলী উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দক্ষ, সুশিক্ষিত ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। আসাদুজ্জামান নূর বলেন, কোনো এক দিনের একটি ঘোষণার জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো। এ ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাই স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবে কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ জনতাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিলো। তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের শতকরা ৯৫ ভাগ ছিলেন গ্রামের সাধারণ স্বল্প শিক্ষিত কিংবা নিরক্ষর মানুষ। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের ঘোষণা শুনে তাদের কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি অগাধ আস্থা ও আনুগত্যের কারণে তারা ৭ই মার্চের পর থেকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর সাহসী কণ্ঠস্বর তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রেরণা ও সাহস যুগিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।সভাপতির বক্তব্যে শিল্প সচিব বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পিছনে এদেশের বিশাল জনগোষ্ঠির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এ বিশাল জনগোষ্ঠির কারণেই মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিলো। পৃথিবীর কোনো দেশে এত লোক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও আত্মাহুতি দেয়নি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভক্তি সৃষ্টি না করে শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।এসআই/এআরএস/এবিএস