একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের আব্দুল আজিজ ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ পলাতক ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর তথ্যসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে প্রসিকিউশনকে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত। আব্দুল আজিজ ওরফে ঘোড়ামারা আজিজ ছাড়া আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে তারা হলেন- মো. রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু, মো. আবদুল লতিফ, আবু মুসলেম মো. আলী, মো. নাজমূল হুদা ও মো. আব্দুর রহিম মিয়া।বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই দিন নির্ধারণ করে দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আব্দুর রহমান হাওলাদার ও সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন। পরে জগো নিউজকে মামলা সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার অন্যতম প্রসিকিউটর আব্দুর রহমান হাওলাদার। হাওলাদার বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, গুম, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, গুম, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ১৩ জন ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ ১৫ জনকে হত্যা-গণহত্যা ও তাদের মরদেহ গুম, তিনজনকে আটক ও অপহরণ করে নির্যাতন এবং তাদের বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৯ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত বর্তমান গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তারা অপরাধগুলো সংঘটিত করেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ৬ খণ্ডে ৮৭৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দলিল রয়েছে। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেড এম আলতাফুর রহমান ও হেলাল উদ্দিন ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্তকাজ সম্পন্ন করেন। ঘটনার ২৫ জন ও জব্দ তালিকার তিনজনসহ মোট ২৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এফএইচ/এনএফ/পিআর