মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের ভূমিকা বিশ্বের ইতিহাসে সব বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতাকে হার মানিয়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার জন্য এত রক্ত পৃথিবীতে এর আগে কেউ দেয়নি। দেশের আনাচে-কানাচে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। বাবার সামনে ছেলেকে, ছেলের সামনে বাবাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। রক্তের হোলি খেলা চলেছে। দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি হয়েছে। এত রক্ত, এত নির্যাতন আর কোনো কালে হবে কি না সন্দেহ।
তিনি বলেন, সবই বৃথা যেত যদি দেশ স্বাধীন না হতো। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতির হাজার বছরের এ কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে গণহত্যা স্মরণ ও মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১: বহুমাত্রিকতার খোঁজে’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর সহযোগিতায় গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের (১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ প্রকল্প) উদ্যোগে এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করেন, প্রশ্ন তোলেন। আমি মনে করি, এ সংখ্যাতাত্ত্বিক বিতর্ক শহীদদের প্রতি অবমাননার শামিল। গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র পরিচালিত জরিপে চিহ্নিত বধ্যভূমির সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ জরিপ সম্পন্ন হলে শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়াবে।
ট্রাস্টের সভাপতি মুনতাসীর মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. সজল নাগ। স্বাগত বক্তৃতা করেন ট্রাস্টের সদস্য এবং জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট কবি তারিক সুজাত। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সম্মেলনে ভারত থেকে আসা অতিথি কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর সদস্য, বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও লেখকরা অংশ নেন।
এমএনএইচ/এমকেআর/এমএস