‘ছাত্র ও শ্রমীক ঐক্য গঠন করার পর চলমান আন্দোলনে একটা জোরসে ধাক্কা দিলেই সরকারের পতন হবে’ বলে মনে করছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ‘এ সরকার নড়বড় করছে! দেশে-বিদেশে কোথাও জায়গা পাচ্ছে না! কাজেই একটা জোরসে ধাক্কা দিলেই সরকারের পতন হবে ইনশা আল্লাহ। আর কোনো বড় ধাক্কা এ দেশের রাজনীতিতে হয়নি, যতক্ষণ না ছাত্র-শ্রমিক সেখানে যুক্ত না হয়েছেন।’
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল হাইস্কুলের সামনে এক দফা দাবিতে খালেদা জিয়াসহ অন্য কারাবন্দীদের মুক্তি, জাতীয় সংসদ বিলুপ্তি ও দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক দফা দাবিতে জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী কনভেনশন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কনভেনশনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদ (এসএসপি)।
নজরুল বলেন, ‘গতকাল আমাদের একটা ছাত্র ঐক্য হয়ে গেছে। এখন আমাদের শ্রমিকদের একটা ঐক্য গঠন হচ্ছে। আমরা আগামী দিনে যে লড়াই করবো, যে ধাক্কাটা দেবো, সেই ধাক্কায় ইনশা আল্লাহ তাদের পতন ঘটবে। এর মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।’
তিনি বলেন, প্রতিদিন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু আমাদের উপার্জন বাড়ছে না। ফলে প্রতিদিন আমাদের কষ্ট বাড়ছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, বাংলাদেশের কোনো শ্রমজীবী মানুষ তাদের হালার উপার্জন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে না। এমন অবস্থায় শ্রমজীবী মানুষের সামনে পরিবর্তনের বিকল্প কিছু নেই।
নজরুল বলেন, আমাদের দেশের শ্রমিক আন্দোলনের একটা গৌরবময় ইতিহাস আছে। স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আমরা শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ গঠন করেছিলাম। এবং এ পরিষদের মাধ্যমে আমরা তখন কিছু যুগান্তকারী দাবি আদায় করতে পেরেছিলাম। আজ আমি দেখতে পাচ্ছি সেই শ্রমিক পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতা এখানে উপস্থিত।
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এ কনভেনশন করছি মূলত যে এক দফা দাবিতে সারাদেশে আন্দোলনরত শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সেই এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমাদের এ কনভেনশন। আমি আশা করছি আজ এ সমাবেশে যে শ্রমিক নেতারা উপস্থিত আছেন, তাদের সবার নেতৃত্বে আমরা সবাই মিলে এক দফা আন্দোলন করে আমাদের দাবি আদায় করতে পারবো। আমরা সবাই জানি যে শুধুমাত্র গণতন্ত্র থাকলেই শ্রমজীবী মানুষের দাবির প্রতি গ্রাহ্য করা হয়। কিন্তু এ দেশে গণতন্ত্র নেই। তাই আমরা গণতন্ত্রের পুনঃ প্রতিষ্ঠা চাই। যদি আমরা গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে আজ যারা শ্রমিক নেতারা আছেন আগামী দিনের বাংলাদেশের দায়িত্বে তারা থাকবেন।’
শ্রমজীবী কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক কর্মচারী কনভেনশন আয়োজন কমিটির সমন্বয়ক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
শ্রমজীবী কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ অনান্যরা।
কেএইচ/এমআইএইচএস/জেআইএম