শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শন করে এমন তথ্য পেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিদর্শক দল।
রোববার (১ অক্টোবর) ডিএসই থেকে জানানো হয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর ডিএসইর পরিদর্শক দল কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে পরিদর্শক দল দেখতে পায় কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া রিজেন্ট টেক্সটাইল সর্বশেষ ২০২০ সালে বিনিয়োগকারীদের এক শতাংশ নগদ ও এক শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেয়। তার আগে ২০১৯ সালে ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছিল।
১২৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৬ লাখ ১২ হাজার ১৩৭টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরচালকদের হাতে আছে ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৪০ দশমিক ৮৪ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ।
আরও পড়ুন: বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারানোর শীর্ষে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স
এর আগে দুলামিয়া কটন এবং নর্দান জুটের কারখানা পরিদর্শন করে বন্ধ পায় ডিএসইর পরিদর্শক দল। এমনকি প্রতিষ্ঠান দুটির কারখানায় ঢুকতে পারেনি ডিএসইর পরিদর্শক দল।
দুলামিয়া কটন গত ২৪ সেপ্টেম্বর ডিএসইর পরিদর্শক দল কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শন করে। দুলামিয়া কটনের বর্তমান পরিস্থিতি জানার জন্য ডিএসইর পরিদর্শক দল কারখানা পরিদর্শনে গেলে কারখানা পুরোপুরি বন্ধ পায় এবং সিল করা থাকায় পরিদর্শক দল ভিতরে যেতে পারেনি।
১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া দুলামিয়া কটন সর্বশেষ কবে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়েছে সে সংক্রান্ত তথ্য ডিএসইর ওয়েবসাইটে নেই। তবে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটি লোকসানে রয়েছে।
মাত্র ৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৭৫ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরচালকদের হাতে আছে ৩৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৬০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে এবং ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ আছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে।
নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিংকোম্পানিটির প্রধান কার্যালয় (হেড অফিস) এবং কারখানা পরিদর্শন করে ডিএসইর পরিদর্শক দল জানায়, কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয় (হেড অফিস) অন্য প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে। আর বন্ধ রয়েছে কারখানা।
আরও পড়ুন: আতঙ্কের বাজারে এমবি ফার্মাসিউটিক্যালসের চমক
গত ৪ সেপ্টেম্বর নর্দান জোট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের কারখানা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনে যায় ডিএসইর পরিদর্শক দল। কিন্তু কারখানা বন্ধ থাকার কারণে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি পরিদর্শক দল।
এরপর ৫ সেপ্টেম্বর ডিএসইর পরিদর্শক দল ঢাকায় কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনে যায়। সেখানে গিয়ে পরিদর্শক দল দেখতে পায় ‘ওএমসি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রধান কার্যলয়টি ব্যবহার করছে।
১৯৯৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া নর্দান জোট ম্যানুফ্যাকচারিং ২০২০ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। বর্তমানে কোম্পানিটি রয়েছে জেড ক্যাটাগরিতে।
মাত্র ২ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ২১ লাখ ৪২ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরচালকদের হাতে আছে মাত্র ১৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। বাকি ৮৪ দশমিক ৯১ শতাংশই রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
এমএএস/কেএসআর/এমএস