তথ্যপ্রযুক্তি

প্রযুক্তি খাতে বেতন বৈষম্যের শিকার নারীরা

চলতি মাসেই বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবার দিবসটিতে বিশ্বজুড়ে নারী-পুরুষের সমতা রক্ষার দাবি জানানো হয়। নারী-পুরুষের সমতা রক্ষায় সর্বাগ্রে প্রয়োজন শ্রমের ক্ষেত্রে সঠিক ও সমান মজুরিপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা। কারণ অর্থনৈতিকভাবে সমতা অর্জন হলে তা সামাজিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। আর ঠিক এই জায়গায়ই পিছিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি খাত।  শুধু উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশ নয়, খোদ উন্নত দেশগুলোতেও নারীরা প্রযুক্তি খাতে পুরুষের চেয়ে কম বেতন পান। সম্প্রতি বিখ্যাত জব সাইট গ্লাসডোর এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের বেশীরভাগ এখনো পুরুষের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। গ্লাসডোর তার ডাটাবেসে সঞ্চিত লাখ লাখ তথ্য পর্যবেক্ষণ করেছে। এক্ষেত্রে চাকরিরত নারী-পুরুষের বয়স, শিক্ষা, কর্ম অভিজ্ঞতা, পদমর্যাদাসহ বেতনও পর্যলোচনা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে টেক প্রতিষ্ঠানে কাজ করা বেশির ভাগ নারীই তাদের পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় কম বেতন পান। অস্ট্রেলিয়ায়  বেতনের এ বৈষম্য ১৭ শতাংশ আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৪ শতাংশ। প্রতিবেদনে গ্লাসডোরে সঞ্চিত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের প্রযুক্তি খাতে নিয়োজিত প্রায় ৫ লাখ ৩৪ হাজার কর্মীর বেতন-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এগুলোকে স্থায়ী ও অস্থায়ী দুই ভাগে ভাগ করা হয়। দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি সপ্তাহে একজন পুরুষের আয় যেখানে ১ হাজার ৬৫৪ দশমিক ৭ ডলার, নারীদের ক্ষেত্রে তা ১ হাজার ৩৯২ ডলার। অন্যান্য খাতের মতো প্রযুক্তিতেও দৃশ্যটা একই। অর্থাৎ আয়ের পার্থক্য প্রায় ১৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ। দেশটিতে সার্বিকভাবে আয়ের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষে ফারাক ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। মার্কিন মুল্লুকে তা ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে ফ্রান্সে এ হার সর্বাধিক বলে নিশ্চিত করেছে গ্লাসডোর।এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. অ্যান্ড্রু চেম্বারলেইন বলেন, আমাদের প্রতিবেদনে সব খাতের ওপরই সমান দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। প্রযুক্তি খাতও এর বাইরে নয়। সেখানেও নারী ও পুরুষের বেতনে বিস্তর বৈষম্য দেখতে পেয়েছি। উপযুক্ত যোগ্যতা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হচ্ছেন নারীরা।প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোয় সাধারণত বেতন-ভাতা বেশি হয়। এখাতে  আকর্ষণীয় বেতনের পাশাপাশি থাকে নানা সুবিধা। কিন্তু গ্লাসডোরের দেয়া প্রতিবেদন মতে শুরু থেকেই এ খাতে বৈষম্যের শিকার হন নারীরা। আর প্রতিষ্ঠানে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এর পরিমাণও বাড়তে থাকে। ফলে লম্বা সময়ের পর একই সময়ে কাজে যোগ দেয়া একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে বেতনের পার্থক্য কখনো কখনো দ্বিগুণে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে বয়স্ক নারীরা অন্যান্য খাতের মতো প্রযুক্তি শিল্পেও অর্থনৈতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।গ্লাসডোরের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডন লায়নের মতে, বিষয়টি নিয়ে এখনই সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে। তিনি বলেন, লৈঙ্গিক ভিত্তিতে নারী ও পুরুষের মধ্যে যে বেতন বৈষম্য চলছে, তা অবসানের জন্য আমাদের প্রচলিত ব্যবস্থা ও ধ্যান-ধারণার পরিবর্তন করতে হবে। নারীদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যান্য খাতের মতো প্রযুক্তি খাতেও একই কথা প্রযোজ্য। তাই বেতন-ভাতার বিষয়টি স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন অনেক প্রতিষ্ঠানই এটিকে ধোঁয়াশায় রাখতে পছন্দ করে। কিন্তু তাতে আসলে প্রতিষ্ঠানেরই ক্ষতি হয়। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব কোম্পানি তাদের বেতন কাঠামো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে এবং বাস্তবিকভাবে প্রয়োগ করে, সেগুলোই উত্পাদনশীলতায় এগিয়ে থাকে। সুতরাং এ বিষয়ে কোম্পানিগুলোর সচেতন হওয়ার আশু প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।এমএমজেড/পিআর