অর্থনীতি

দেয়ালে ঠেকেছে বিনিয়োগকারীদের পিঠ

দেশের পুঁজিবাজারে একদিকে রয়েছে তারল্যের সঙ্কট অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব। বাজার উন্নয়নে সকারের নেওয়া নানা উদ্যোগ, পদক্ষেপেও কাজে আসছে না। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে চলছে দরপতন। আর একের পর এক দরপতনের পুঁজি হারিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বিনিয়োগকারীদের। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকিং খাতে পর্যাপ্ত তারল্য থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তা বিনিয়োগ করতে পারছে না শেয়ারবাজারে। ফলে অর্থ সঙ্কটে ভুগছে শেয়ারবাজার। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংকে একক গ্রাহক ঋণ সমন্বয়ের সময় (সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট)  দুই বছর বাড়ানোর কথা বললেও তা আশ্বাসেই ঝুলে রয়েছে। যার কারণে অনেকটা নিষ্ক্রিয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিযোগকারীরা। ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে ৩০০ কোটির ঘরেই ঘুরপাক খাচ্ছে লেনদেন। তাই বাজারে তারুল্য প্রবাহ বাড়ানোসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো উদ্যোগ নিতে দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।   এদিকে, ধারাবাহিক দরপতনে বিগত কয়েক মাসে প্রায় ৬০ শতাংশ বিনিয়েগ হারিয়েছে বলে জানান আনিসুল নামের এক বিনিয়েগোককারী। তিনি জানান, বাজার ঘুরে দাড়াবে বলে বছরের শুরুতে পাঁচ লাখ টাকায় কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার কিনি। এখন আমার মূলধন ২ লাখ ১০ হাজারে নেমে এসেছে। ২০১০ সালেও একবার বড় লস খেয়েছি। সেটা আর বলতে চাচ্ছি না। এখন বাজারে আবারও একই অবস্থা হচ্ছে। সঞ্চয়কৃত পুঁজি আর নেই, সব হারিয়েছি  এখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন বাজার ঘুরে না দাড়ালে বাকি পুঁজিটুকু শেষ হয়ে যাবে। নতুন গভর্নর এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। গভর্নরের কাছে সাধারণ বিনিয়োগকারী হিসেবে আমার দাবি তিনি যেন এক্সপোজার লিমিটের সময় বাড়িয়ে দেন। এতে আমরা কিছুটা ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবো।বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশ কয়েক সপ্তাহের ধরে দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় গেল সপ্তাহেও দরপতন হয়েছে। কমেছে সব ধরনের মূল্যসূচক, টার্নওভার, পিই রেশিও ও বাজার মূলধন। পতন হয়েছে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর। গেল সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রথম কার্যদিবস রোববার (২০ মার্চ) লেনদেনের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৭ হাজার ৯৮৪ কোটি ১১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮ টাকা এবং শেষ কার্যদিবসে বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) লেনদেন শেষে মূলধন নেমে এসেছে ৩ লাখ ৪ হাজার ১৭২ কোটি ২৬ লাখ ৮১ হাজার ৪৮৬ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন হারিয়েছে ৩ হাজার ৮১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা ১ দশমিক ২৪ শতাংশ।গত সপ্তাহে পাঁচ দিনে টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ৮০০ টাকা। যা এর আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বা ২১ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি। আগের সপ্তাহে চার কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৫১০ কোটি ৩৯ লাখ ২ হাজার ৯২৪ টাকার। তবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে কমেছে টার্নওভারের পরিমাণ। গড়ে প্রতিদিন টার্নওভার দাঁড়িয়েছে হয়েছে ৩৬৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ৩৭৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে টার্নওভার কমেছে ৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৬১ শাতংশ কম। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৭৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭০ শতাংশ। ডিএস৩০ সূচক কমেছে ৩৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক কমেছে ২০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯২ শতাংশ।গেল সপ্তাহে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৩১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮০টির, কমেছে ২২১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির আর লেনদেন হয়নি ৫টি কোম্পানির শেয়ার।সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারের সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে ১৪ দশমিক ৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।বিগত সপ্তাহে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক কমেছে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। সিএসই৩০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং সার্বিক সূচক  সিএসসিএক্স কমেছে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং শরীয়াহ সিএসআই সূচক কমেছে ২ দশমিক ২২ শতাংশ।সপ্তাহে সিএসইতে গড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ২৭০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৬টির, কমেছে ১৮০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টির। টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ১২২ কোটি ৮৬ লাখ ৬১ হাজার ৭৬৬ টাকা।এসআই/এএইচ/পিআর