নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ভণ্ডপীর আনিছুল হকসহ প্রতারক চক্র ফের মাসাবো এলাকার ময়ফুলনগর দরবার শরিফ নামে আস্তানায় আসার জন্য মরিয়ে হয়ে উঠেছে। এছাড়া এলাকার প্রতিবাদীদের হয়রানি করতে নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেছে। এসবের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে মাসাবোসহ আশ-পাশের শত শত মুসল্লি একত্রিত হয়ে ভণ্ডপীরের আস্তানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। গত এক মাস আগে স্বপ্ন ধর্ষণের ব্যাখ্যা দিয়ে এক কিশেরারীকে বৃদ্ধ ভণ্ডপীরের বিয়ে করা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের পর ভণ্ডপীরের আস্তানায় আগুন দিয়ে ও ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিলো বিক্ষুব্ধ জনতা। তখন জনতার বিক্ষোভের মুখে ভণ্ডপীরসহ তার ভক্তরা কৌশলে পালিয়ে যায়।উল্লেখ্য, উপজেলার মাসাবো চৌরাস্তা এলাকায় ময়ফুলনগর দরবার শরিফ রয়েছে। ওই দরবার শরিফের পীর দাবি করে আসছেন আনিছুল হক নামে এক ভণ্ড। দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন এলাকার কিশোরী, যুবতীসহ বিভিন্ন বয়সের নারীরা ভণ্ডপীর আনিছুল হকের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। পার্শ্ববর্তী সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের পেরাব এলাকার শহীদ মিয়ার মেয়ে কিশোরী সুমাইয়া আক্তার তার পরিবারের সঙ্গে ভণ্ডপীরের আস্তানায় বসবাস করতেন। এ সময় ভণ্ডপীর আনিছুল হক স্বপ্ন ধর্ষণের ব্যখ্যা দিয়ে কিশোরীর পরিবারকে জানায়, ওই কিশোরীকে বিয়ে না করলে ভণ্ডপীর আনিছুল হক মারা যাবেন। পরে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে পাঁকা হয় এবং গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। এদিকে স্বপ্ন ধর্ষণের ব্যাখ্যা দিয়ে কিশেরারীকে বৃদ্ধ ভণ্ডপীরের বিয়ে করা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ওই রাতে ৯টার দিকে মাসাবো, পেরাব, আড়িয়াবো, বরপা, কান্দাইলসহ আশ-পাশের এলাকার শত শত জনতা ভণ্ডপীরের আস্তানার সামনের একটি গেইট ভাংচুর করে ও দ্বিতীয় তলা ভবনের একটি আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় ভণ্ডপীর আনিছুল হকসহ তার ভক্তবৃন্দ কৌশলে আস্তানার গোপন কক্ষের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘণ্টা ব্যপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।রূপগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ভণ্ডপীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মীর আব্দুল আলীম/এফএ/এমএস