দেশজুড়ে

বাহাদুর বটে বীর বাহাদুর!

সরদার বাহাদুর আলী যেন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের ব্র্যান্ড নেম। তাইতো এক বার দুইবার নয়, আটবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। যশোরের মনিরামপুরের দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের অষ্টমবারের চেয়ারম্যান তিনি। সর্বজন গ্রহণযোগ্য এই মানুষটি সম্ভবত স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বাধিকবার চেয়ারম্যানের চেয়ারে আসীন হয়েছেন। চারদলীয় জোট, মহাজোটসহ বিভিন্ন সরকারের আমলে এলাকাবাসীর আকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত সরদার বাহাদুর এলাকায় তাই সত্যিকারের বাহাদুর হিসেবে গণ্য হয়েছেন। এই পথচলায় তিনি বারবার এলাকার মানুষের সমর্থন পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা যশোরের মনিরামপুর। এই উপজেলার দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের মৃত আছির উদ্দীনের সুযোগ্য ছেলে তিনি। মৃত আছির উদ্দীনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি হলেন দ্বিতীয় সন্তান। তিনি ১৯৫৮ সালে ম্যাট্টিকুলেশন পাশ করেন সরদার বাহাদুর। আইএ পাশ করেন ১৯৬২ সালে। এরপর ১৯৬৮ সালে পাশ করেন ডিগ্রি। এর মধ্যে ছাত্র অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপর তিনি এলাকার শ্যামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। সরদার বাহাদুর জানান, ১৯৭৩ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট এবং নানা অনুকূল-প্রতিকূল পরিবেশে অনেকে আত্মগোপনে কিংবা নানা সুবিধার টোপে বন্দি হলেও তিনি নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। সুখে-দুখে সব সময় এলাকাবাসীর পাশে ছিলেন। তাই তো যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে তাকেই বারবার বেছে নিয়েছে দুর্বাডাঙ্গার মানুষ। সর্বশেষ চলতি বছরের ২২ মার্চ নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে অষ্টমবারের মতো ওই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি হয়েছেন।এই যাবতকাল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো ধরনের অভিযোগ তুলতে পারেনি।ইউনিয়নের অনেকেই মন্তব্য করেন আমৃত্যু চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাইলে প্রতিবারই তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। তিনি তার দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করার পাশাপাশি জনগণের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে পারেন তার জন্য সকলের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়েছেন।উল্লেখ্য, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ১৯৭৭ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব করেন। এরপর মোট পাঁচবার মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে সংগঠনের হাল ধরেন। বর্তমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও কোনো পদে নেই তিনি। মিলন রহমান/এআরএ/এমএস