দেশজুড়ে

ধামইরহাটে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা

নওগাঁর ধামইরহাটে দ্বিতীয় পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের ব্যস্ততা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রার্থীরা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মনে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ভোটারাও কোন প্রার্থীকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন ও ইউনিয়ন পরিষদ সঠিকভাবে পরিচালিত হবে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন।ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় স্ব স্ব দলীয় লোকজন তাদের মনোনীত প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন।  ভোটার ও স্থানীয় আ.লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ইউপি নির্বাচনে মূল লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের বিদ্রেহী প্রার্থীরা। দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অনেকে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বেকায়দায় রয়েছেন তারা। অন্যদিকে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীরা পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি প্রার্থীদের জন্য।ধামইরহাট উপজেলার আটটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৮ জন। সব কটি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী রয়েছে। দুটি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির এবং দুটিতে জামায়াতের সাবেক দুই ইউপি চেয়ারম্যান এবারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে উপজেলার আলমপুর, ইসবপুর ও জাহানপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এই উপজেলার আটটি ইউনিয়নে বিএনপিতে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও আলমপুর ও ধামইরহাট ইউনিয়নে জামায়াতের দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এই দুই ইউনিয়নে বেকায়দার রয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা।ধামইরহাটের সদর ইউনিয়নে উপজেলা জামায়ায়েতের সহ-সেক্রেটারি কাজী ফজলুর রহমান চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ওই ইউনিয়নের ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধামইরহাট উপজেলা জামায়াত শক্তিশালী হওয়ায় এই ইউনিয়নে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন। একই রকম সমস্যায় রয়েছেন আলমপুর ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী। এখানে বর্তমান চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আতাউর রহমান এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী রুহুল আমিন জানান, জামায়াত-বিএনপির ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় ভোটে কিছুটা প্রভাব ফেললেও জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আগের চেয়ে এখানে জামায়াতের প্রভাব অনেক কমে গেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগেও বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।উপজেলা নির্বাচন অফিসার জেবুন্নেসা শাম্মী জানান, আটটি ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৯শত ৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৩ হাজার ৯৮৩ জন এবং মহিলা ভোটার ৬৩ হাজার ৯৯৬ জন। ৭৪টি ভোট কেন্দ্র এবং ৪১৮টি বুথের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসেন আহমেদ জানান, নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্টু ও সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ করার জন্যর যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আব্বাস আলী/এফএ/এমএস