স্বাধীনতার ৪৫ বছর উদযাপনে মেতেছে বাঙালি। তার ছোঁয়া লেগেছে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও। সরকারি ছুটির এই দিনটিতে শিশু-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ তরুণ-তরুণী সবাই ভিড় জমিয়েছেন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। শনিবার শিশুপার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে শুরু করে জাতীয় জাদুঘর, ছবির হাট, এলাকা জুড়ে ছিল নারী-পুরুষের ভিড়। সরকারি ছুটি হওয়ায় সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছে রাজধানীবাসী। সকাল থেকেই রাজধানীর প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রেই দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের সংখ্যা আরো বাড়তে থাকে।শিশুদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এদিক-সেদিক দৌড়-ঝাপ আর ঘুরে ঘুরে আনন্দ প্রকাশ করেছে শিশুরা। আর শিশুর পেছনে দেখা গেছে তাদের বাবা-মাকেও।বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে শাহবাগের শিশু পার্কে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশুরা দখলে নিয়েছে পুরো এলাকা। পার্কের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়- ঝুলন্ত চেয়ার, নাগরদোলা, ঘূর্ণি, চরকি, যুদ্ধবিমান, ট্রেনসহ প্রতিটি রাইডের সামনেই ছিল লম্বা লাইন। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি এ লাইনে ছিলেন তাদের অভিভাবকরাও। তবে রাইডে চড়ার আনন্দ ভুলিয়ে দিচ্ছিল তাদের সব কষ্ট। শিশু পার্কে দায়িত্বরত আব্দুল আলী জানান, আজ অন্যান্য দিনের তুলনায় ভিড় অনেক বেশি। সন্ধ্যার পর ভিড় আরও বাড়বে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজকে শিশুদের জন্য প্রবেশসহ সব রাইড ফ্রি করা হয়েছে। তবে বড়দের টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। প্রবেশ মূল্য ৮ টাকা আর প্রতিটি রাইডের টিকিট ৬ টাকা। বাবা-মার সঙ্গে শিশু পার্কে এসেছিল রকিবুল ইসলাম। বিমানে উঠবে বলে লাইলে দাঁড়িয়ে ছিল সে। ছোট্ট রকিব বলে, যুদ্ধবিমানে চড়বো। আমার খুব ভালো লাগছে। রাজধানীর খিলগাঁও থেকে শিশু পার্কে ৫ বছরের নিথিকে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন তার বাবা আবিদ হোসেন। মেয়েকে ট্রেনে চড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছেন আবিদ। তিনি জানান, স্বাধীনতা দিবস তাই আজ ছুটি। নানা ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে তেমন সময় দিতে পারি না। তাই সময় হয়েছে মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। নিথি আজ প্রথম ট্রেনে উঠবে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। চারদিকে উৎসব উৎসব একটা পরিবেশ বিরাজ করছে। এসআই/এসকেডি/এনএফ/এমএস