সংগ্রামের কয় বছর পরেই ঢাহায় আইছি। আগে হাইকোর্ট মাজারে বইতাম। ২০ বছর আগে শাহ আলী মাজারে আইছি। এরপর গেরাম দেশ মাদারীপুরে আর যাই নাই। এনেই ভিক্ষা করি। রাতে বাইরে ঘুমাই। বাড়িতে কেউ বাঁইচা আছে কি না, তাও আর জানি না।শনিবার বিকেলে মিরপুর শাহ আলীর মাজারে ভিক্ষা করছিলেন রমজান আলী। সেখানেই কথা হয় এই বৃদ্ধ ভিক্ষুকের সঙ্গে।স্বাধীনতার পরই জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পারি জমিয়েছিলেন তিনি। আর ফেরেননি গ্রামে। সারাদিন ভিক্ষা করে যা আয় করেন, তা দিয়েই দিনপার। বেশ কয়েকবার টাকা জমিয়েও শেষ পর্যন্ত রাখতে পারেননি। চোখে দেখেন না বলে বারবার ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে হয়েছে। এখন আর টাকা জমান না। যা আয়, তাই ব্যয়। রমজানের স্বাধীনতা এই মাজারেই। জীবনের স্বাদ তার অন্যের দ্বারে হাত বাড়িয়ে।রমজানের পাশে ভিক্ষার থালা নিয়ে বসে আল্লাহর নাম জপছিলেন আশি বছরের বেশি বয়স্ক আম্বিয়া খাতুন। ঢাকার বিক্রমপুরে থেকে অন্ধ স্বামীকে নিয়ে ৩০ বছর আগে মাজারে এসেছিলেন ভিক্ষা করতে। স্বামী মারা গেছেন ১০ বছর আগে। স্বজনের কথা সব ভুলে গেছেন। এখন যেন মৃত্যুই তার কাঙ্ক্ষিত স্বজন। ভিক্ষার ছলে মৃত্যু প্রহরে গুণেই তার দিন পার। আম্বিয়ার জীবনে স্বাধীনতার রূপ কখনই রঙিন হয়নি। তার জীবনের স্বাদ বরাবরই ফিকে।তিনি বলছিলেন, ‘জীবনে কত দিনই আইল। কোনোটিই তো আমার হইলো না।’রমজান, আম্বিয়ার মতো শত শত ঘরহারা মানুষের ঠাঁই হয় শাহ আলীর মাজার। মাজার জিয়ারতে আসা মানুষের কাছে হাত বাড়িয়েই ওদের বেঁচে থাকা। দিবস আসে দিবস যায়। স্বাধীনতার রং ওদের অদেখাই থেকে যায়।এএসএস/এনএফ/এমএস