দেশজুড়ে

রাজশাহীতে ঠিকাদারের বাড়িতে গুলি : লুটপাট

রাজশাহী নগরীতে চাঁদার দাবিতে সন্ত্রাসীরা এক ঠিকাদারের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এসময় তারা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাড়িতে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় লাখ টাকার পণ্য লুট করে নিয়ে গেছে।শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় ঠিকাদার রাকিব সরকারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।রাকিব সরকার জানান, লক্ষ্মীপুর এলাকায় মেসার্স রাশেদা এন্টারপ্রাইজ নামে তার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি লক্ষ্মীপুর এলাকায় ল্যাব এইডের নির্মাণাধীন ভবনে ইট ও বালুসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করেন। এ কারণে গত কয়েকদিন থেকে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ তার কাছে ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সন্ত্রাসীরা রাকিব সরকারের চেম্বারে গিয়ে চাঁদার টাকা দাবি করে। কিন্তু রাকিব সরকার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই দিন সন্ত্রাসীরা তার চেম্বারের সামনে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে তাকে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এরপর তার কাছে প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। কিন্তু তিনি চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা শনিবার রাতে লক্ষ্মীপুর এলাকায় তার বাড়িতে হামলা চালায়।রাকিব সরকার অভিযোগ করেন, লক্ষ্মীপুর কাঁচাবাজার এলাকার জীবন, সবজিপাড়ার নাসির, তার ভাই আলমগীর, একই এলাকার যুবলীগ নেতা রুবেল ও ডিস ব্যবসায়ী সুজনসহ ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী তার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তাদের প্রত্যেকের কাছেই পিস্তল ছিল। এই পিস্তল দিয়ে তারা বাড়ির ভেতরেই পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তারপর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে নগদ ৩৭ হাজার টাকা, কয়েকটি মোবাইল ফোন ও বাড়ির নারীদের স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে ঠিকাদার রাকিব সরকার বলেন, সন্ত্রাসীরা থানা এলাকায় পাহারা দেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করতে পারিনি। তবে বিষয়টি রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়েছে।তবে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাননি বলে দাবি করেছেন নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান।তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আর থানার আশেপাশে কোনো সন্ত্রাসীও নেই। রাকিব সরকারকে থানায় এসে অভিযোগ দিতে বলেন।শাহরিয়ার অনতু/এফএ/আরআইপি