বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়। সকালে মিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপনের সূচনা করা হয়। মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে মিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এতে অংশ নেন। এসময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। বিকেলে জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তৃতায় স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ৭ বছর ধরেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি অর্জিত হয়েছে। প্রবাসী আয় কয়েকগুণ বেড়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়িত হচ্ছে। কিছু অপশক্তি বাংলাদেশের এ অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। এসব অপশক্তিকে সকলে মিলে রুখে দিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় স্ব-স্ব অবস্থান থেকে অবদান রাখার জন্য তিনি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান। স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এমডিজি অর্জন করেছে। এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এসডিজি’র ১৭টি লক্ষ্য ও ১৬৯টি টার্গেট পূরণে দেশকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জাতিসংঘে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি প্রবাসীদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বক্তৃতা করেন। বক্তারা জাতির পিতার নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। জেএইচ/এমএস