বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জে (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেছেন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নীরবতাই প্রমাণ করে যারা হত্যা গুম, খুন,ধর্ষণ করছে তাদেরকে তিনি উৎসাহিত করছেন।রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনলাইন এক্টিভিস্ট কাউন্সিল অব বাংলাদেশ আয়োজিত সোহাগী জাহান তনুর হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি।তিনি বলেন, তনু হত্যার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। নিজের বিবেকের কাছেই আমি বিব্রত বোধ করছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই অবৈধ সরকার ধর্ষণ হত্যা কিছুই মনে করে না। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে শেখ হাসিনার নীরাবতাই তা প্রমাণ করে।হান্নান শাহ বলেন, সরকারের আসকারার কারণেই ক্যান্টনমেন্টের মত একটি সুরক্ষিত জায়গায় তনুকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তনুতেই শেষ নয়, আরো ধর্ষণ-হত্যা হবে। সরকারের গুণ্ডা পাণ্ডারা মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। কারণ সরকার সকল ক্ষেত্রে দ্বিমূখী আচরণ করছে। আওয়ামী লীগের গুণ্ডা পাণ্ডা এবং তাদের অনুসারীরা কোন অপরাধ করলে সরকার নিরব, কিন্তু বিএনপি হলে সরকার সরব থাকে। গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আশ্চর্য বিষয়, হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও মিডিয়া এখনও তেমন কিছু বলতে চাচ্ছে না। জানিনা কোন কারণে এমটি হচ্ছে।তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, মনে হয়- যদি উপযুক্ত প্লাটফর্ম পেতাম তাহলে একটি ইস্যুতে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে বলতাম।এসময় তিনি প্রজ্ঞাপন জারি করে সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে তনু হত্যার আসল রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূল শাস্তি দাবি জানান।একই দাবিতে অপর এক মানববন্ধনে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছেন, মানুষ আজ বেডরুম থেকে শুরু করে সীমান্তে , এমনকি দেশের সর্বোচ্চ সুরক্ষিত জায়গা ক্যান্টনমেন্টের মত এলাকায়ও নিরাপদ নয়।তিনি বলেন, সাগর-রুনীকে বেডরুমে হত্যা করা হয়েছিল। ফেলানীকে সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এখন আবার তনুকে ক্যন্টনমেন্টে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার হয়নি।তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের সময় আপনি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু এখন নিরব কেন? এর আপনি জনগণকে কি বুঝানোর চেষ্টা করছেন।মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, সাবেদ সংসদ সদস্য নিলুফা চৌধুরী মনি, ছাত্র দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।এমএম/এসকেডি/এবিএস