প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড ঘটলেও এর দায় নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এমনকি পরবর্তী ধাপের নির্বাচনের জন্য তেমন প্রস্তুতিও নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও জানা গেছে। তাই আগামীতে আরো সহিংসতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২২ মার্চ প্রথম ধাপে দেশের ৭১২টি ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের আগে ও পরে সারা দেশে নির্বাচনী সহিংসতায় এ পর্যন্ত ২৪ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছে দুই হাজারের বেশি মানুষ। প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী সহিংসতা এখনো অব্যাহত আছে। এসব সহিংসতার বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ঘটছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচনে কেউ মারামারি করলে এর দায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে না। এর দায় ইসির নেয়ার কোনো কারণ দেখি না। আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছি, কোনো সহিংসতা হলে যেন শক্তভাবে ভূমিকা গ্রহণ করে। যিনি সহিংসতা করবেন তিনি যেন ছাড় না পান, যেন গ্রেফতার হন, যেন চরম ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কার্পণ্য না করেন। ইসির সূত্র জানায়, পিরোজপুরে ৩৬৬ ভোট কেন্দ্রের ১৭৬টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে ইসির কাছে তালিকা ছিল। কিন্তু এরপরও কোনো বাড়তি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ইসি। ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে পিরোজপুর সদর উপজেলা ৪টি ইউনিয়নের ৩৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি, মঠবাড়িয়া ১০ ইউনিয়নে ৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫২টি, নেছারাবাদের (স্বরূপকাঠী) ১০ ইউপির ৯১ কেন্দ্রের ৩৯টি,কাউখালী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি, নাজিরপুর ৫ ইউনিয়নে ৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি, জিয়ানগরের একটি ইউনিয়নে ৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫টিসহ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ধানীসাফা ইউনিয়নের সাফা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে। ভোট গণনার সময় বিক্ষোভের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিল কমপক্ষে পাঁচজন। কিন্তু এরও দায় নিচ্ছে না ইসি। এদিকে ইসির একাধিক সূত্র জানায়, মাঠ পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর ইসির নির্দেশ মানছে না। তাই আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আরো সহিংসতার আশংকা রয়েছে। এজন্য কিছু নিদের্শনাও দেবে ইসি। কিন্তু কতটুকু কাজ হবে না নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর ইসির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এজন্য আগামীতে আরো হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। যা কারো কাম্য নয়। এইচএস/জেএইচ/এমএস