দ্বিতীয় দফা ইউপি নির্বাচন জমে উঠেছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে। এই উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নে আপন দুই ভাই ভোটযুদ্ধে লড়ছেন বড় দু` দল (আ.লীগ ও বিএনপি) থেকে। এই দুই ভাইয়ের নির্বাচন এখন পরিণত হয়েছে টক অব দ্য ভূরুঙ্গামারীতে। দুই ভাইয়ের প্রার্থী হওয়ার ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে জনমনে। কেউ কেউ বলছেন, আপন দুই ভাই কিভাবে বিপরীত মেরুর দুই দলের কান্ডারী হতে পারে? কেউ বলছে এই ইউনিয়নে কী আর কোন মানুষ নেই! এমন নানান কথাবার্তার মধ্যেও আরেক সম্ভাব্য জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি। ফলে এই ইউনিয়নের নির্বাচনের দিকে সবার আলাদা একটা নজর থাকছে। জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে পাইকেরছড়া একটি। আগামী ৩১ মার্চ দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে এই উপজেলা থেকে ৭ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মামলা জটিলতার কারণে ৩ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আলোচিত পাইকেরছড়া ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ড মিলে ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ৮২৬ ও নারী ভোটার ৯ হাজার ২১৭। বড় ভাই আব্দুর রহিম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করছেন। ছোট ভাই লুৎফর রহমান নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি। সাবেক ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দল ত্যাগ করে জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে এই তিনজনের দিকে এখন সবার দৃষ্টি। এছাড়াও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন আনারস প্রতীকে এমএ জব্বার ও ঘোড়া প্রতীকে শহিদুল ইসলাম। বড় ভাই বিএনপির দলীয় প্রার্থী আব্দুর রহিম বলেন, এটা ভাল লাগার বিষয়। দলীয় নির্বাচন। এক পরিবারের দুই ভাইকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। জনগণ বেছে নেবে কাকে সমর্থন দেবে। ছোট ভাই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান জানান, আমরা কেউ কারো বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করছি না। দলকে মন থেকে ভালবাসি। তাই দলের জন্য, দলের আদর্শের জন্য লড়াই করছি। ইউনিয়নবাসী সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চান। এদিকে এ ইউনিয়নে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) মনোনীত সাবেক ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, জনগণের জন্য কাজ করি। তাই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। দুই ভাইয়ের লড়াইয়ের ফাঁক গলে তিনি বের হয়ে আসতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।নাজমুল হোসেন/এসএস/এমএস