মাগুরার শ্রীপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত ও পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের ছাবিনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে জিরাত মণ্ডল (৬০) ও বকুল মোল্লা (৪৮) নামের দুই আওয়ামী লীগ কর্মীকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক ইউপি মেম্বারসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ছাবিনগর গ্রামের জিনাত আলীসহ অন্যরা জানান, দুপুরে গয়েশপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হালিমের সমর্থক চুন্নু মিয়া তার নিজ গ্রাম ছাবিনগরের একটি জমিতে পেঁয়াজের ক্ষেতে কাজ করছিলেন। এসময় তাদের প্রতিপক্ষ গয়েশপুর ইউনিয়নের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউসুফ মণ্ডলের সমর্থকরা তার ওপর হামলা চালানোর জন্য ঘিরে ফেলেন। তিনি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। এ ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হলে আব্দুল হালিম ও গত ইউপি নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী ইউসুফ মণ্ডলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় তারা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালালে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে জিরাত মণ্ডল ও বকুল মোল্লাকেমাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় জহুরুল মোল্লা ও বাদশা মণ্ডল নামের ইউসুফ মণ্ডলের দুই সমর্থকসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে পাঁচটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে গয়েশপুর ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি মেম্বার হান্নান মণ্ডল ও সেতু বিশ্বাস নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কুমার রায় বলেন, পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গত ২৬ নভেম্বর সাকিব আল হাসানের মনোনয়ন লাভের পর তার পক্ষে এলাকায় আনন্দ মিছিল করেন ইফসুফ মণ্ডলের সমর্থক গয়েশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোর্শেদ টুকুসহ অন্যরা। এ ঘটনায় ইফসুফ মণ্ডলের স্থানীয় প্রতিপক্ষ আব্দুল হালিম চেয়াম্যানের সমর্থকরা রোবাবর (৩ ডিসেম্বর) লাঙ্গলবাঁধ বাজার এলাকায় গোলাম মোর্শেদ টুকুকে হাতুড়িপেটা ও কুপিয়ে জখম করেন। এ ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। যার জের ধরে আজকের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
মিলন রহমান/এসআর/এএসএম