দেশজুড়ে

এবার বাড়লো মাছের দাম

পেঁয়াজের পর চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে সবধরনের মাছের দাম। দুদিনের ব্যবধানে নদী ও চাষের মাছে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩০-৫০ টাকা। উপজেলার কয়েকটি বাজারে ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।

মিঠাছড়া বাজারে মাছ কিনতে আসা গৃহবধূ শামসুন নাহার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার তেলাপিয়া মাছ কিনেছি ১৮০ টাকা কেজি। আজ সাইজে আরও ছোট তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। অন্যান্য মাছেরও দাম বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।’

বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৭০০ টাকা, মাঝারি ১০০০ টাকা ও বড় সাইজের চিংড়ি বিক্রি ১৪০০ টাকা; পাঙাশে ১৬০-২০০ টাকা; চাষের কই, পাবদা বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা; ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের চাষের রুই-কাতলার দাম হাঁকানো হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি। এককেজির বেশি ওজনের হলে ৪০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। আর বড় মাছের কেজি ছুঁয়েছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ছোট পোয়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা ও বড় পোঁয়া ৪৫০ টাকা। সাগরের পাঁচ মিশালি মাছ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকায়। চাষের শিং, মাগুর বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা দরে।

আরও পড়ুন: লাগামছাড়া পেঁয়াজের বাজার, বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৪০ টাকায়

মিরসরাই সদরে বাজার করতে আসা চাকরিজীবী নুর হোসেন মানিক বলেন, ‘গত ১৫ দিন ধরে মাছের দাম কিছুটা কম ছিল। অথচ দুদিনের ব্যবধানে আবারও প্রতিকেজিতে ৩০-৫০ টাকা বাড়তি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আসলে যার যেভাবে খুশি মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।’

মিঠাছরা বাজারের মাছবিক্রেতা শিমুল বলেন, ‘বেশি টাকায় পাইকার থেকে মাছ কিনেছি, তাই বেশি টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদেরতো ব্যবসা করতে হবে। কম টাকায় কিনতে পারলে বিক্রিও কম টাকায় করতে পারতাম।’

রতন দাস নামের আরেক মাছবিক্রেতা বলেন, ‘যত দোষ মাছ ব্যবসায়ীদের। অন্যান্য জিনিসের দামতো আরও অনেক বেড়ে গেছে। সেগুলো নিয়েতো কারো মাথাব্যথা নেই।’

মুহুরী প্রকল্প এলাকার মৎস্যচাষি কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আমরা আড়তে বেশি দামে মাছ বিক্রি করতে পারি না। কিন্তু সাধারণ ভোক্তারা বেশি দাম দিয়ে মাছ কিনছেন। এতে লাভবান হন মধ্যস্বত্বভোগীরা।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, বেশি দামে পণ্য বিক্রির বিষয়ে মনিটরিং চলছে। অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। মাছ বিক্রির বিষয়টিও মনিটরিং করা হবে।

এম মাঈন উদ্দিন/এসআর/জিকেএস