মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের মনিটরিং কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। কমিটির সংশ্লিষ্টদের দোহাই দিয়ে দূতাবাসের আশপাশে দালাল চক্র তৎপর হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবাসী শ্রমিক। তারা বলছেন, নতুন পাসপোর্ট করতে যেয়ে দূতাবাসে প্রবেশ করার আগেই ওই চক্রের সম্মুখীন হতে হয়। দূতাবাসের এমন পরিস্থিতি নিয়ে প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।কমিউনিটি নেতারা বলছেন, দূতাবাসের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। কমিউনিটির যখন এতই প্রয়োজন তখন হাইকমিশনের উচিত ছিল দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিটি করা। তা-না করে শুধু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সাড়ে আট লাখ বাংলাদেশির দূতাবাস নয়, দূতাবাস এখন আওয়ামী লীগের কার্যালয়।তারা যেমনি নাচায় তেমনি নাচে পুতুলের কী দোষ এমনই মন্তব্য করেছেন তারা। এ দিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যদিয়ে চলছে ডিজিটাল পাসপোর্টের কার্যক্রম। মিশনের চেইন অব কমান্ড টিকিয়ে রাখেতে এবং প্রবাসীদের ভিড়ের মাঝে যাতে করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে জন্য গঠন করা হয় এই মনিটরিং কমিটি। কিন্তু এই কমিটিকে পাস কাটিয়ে টাকার বিনিময়ে ফিঙ্গারিং হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠায় সজাগ দৃষ্টি রাখছেন কমিটির সংশ্লিষ্টরা।কমিটির শংশ্লিষ্টরা বলছেন, দূতাবাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ কমিটি হয়েছে আমরা শুধু সহযোগিতা করছি দূতালয়কে। মনিটরিং কমিটির কাজ শুধু সঠিক মতে পাসপোর্ট ফর্ম ফিলাপ করছেন কিনা এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রবাসী শ্রমিকরা আবেদন জমা দিচ্ছেন কিনা। কোনো টু পাইস কামানোর আশায় কেউ এখানে কাজ করছে না। হাইকমিশন নির্ধারণ করেছেন ডিজিটাল পাসপোর্ট করতে ১১৬ রিঙ্গিতের ব্যাংক ড্রাফ্ট করে আবেদন করতে হয়। টু পাইস কামানোর সুযোগ নেই। যদি এ রকম প্রমাণ থাকে তাহলে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে জানালেন মনিটরিং কমিটির একজন।দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি রাষ্ট্রদূত মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে একটি জরুরি সভায় মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার মো. ফয়সল আহমেদ, কাউন্সিলর রইছ হাসান সারোওয়ার, কাউন্সিলর (শ্রম) মো. সায়েদুল ইসলাম, ফার্স্ট সেক্রেটারি এস কে শাহীন।মনিটরিং কমিটিতে আরো রয়েছেন মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুর রহমান ওহিদ, কামরুজ্জামান কামাল, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মকবুল হোসেন মুকুল, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ বাদল, শাহিন সরদার, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মাহতাব খন্দকার, এ কামাল চৌধুরী, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সদস্য হাজি জাকারিয়া, আব্দুল করিম, মনিরুজ্জামান মনির, মনির হোসেন, শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, আক্তার হোসেন, যুবলীগের আহ্বায়ক তাজকির আহমেদ। ভলান্টিয়ার সার্ভিসে আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহতাব খন্দকারকে প্রধান করে ১০ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।কেন এই কমিটি করা হয়েছে দূতালয়ের কাউন্সিলার (শ্রম) মো. সায়েদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, মনিটরিং কমিটি আসলে লিখিতভাবে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। ডকুমেন্ট সত্যায়ন, জন্ম নিবন্ধন, ট্রাভেলপাস, জেলখানা, এফিছ/ডেমো ফিঙ্গারপ্রিন্ট রোম, হাতে লেখা পাসপোর্ট রিনিউ, রি-ইস্যু, ভিসা, নতুন পাসপোর্ট, ফিঙ্গারিং রোম সব কটি বিভাগে আমাদের প্রশাশনিক কর্মকর্তারা সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন এবং প্রবাসীদের সেবা দিচ্ছেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকরা অধৈর্য হয়ে হইহুল্লুর শুরু করেন। আশ-পাশের কূটনৈতিক মিশনের কর্তারা এ নিয়ে অনেক অভিযোগ করেছেন। এরই প্রেক্ষিতে যাতে করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে জন্য কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে কমিটি হয়েছে।কাউন্সিলার বলেন, যদি এ কমিটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার থেকে ১৫শ জনের এমআরপির ফিঙ্গারিং নেয়া হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।বিএ