জাতীয়

বাংলাদেশে ২ কোটি মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে

বাংলাদেশে এখনো ২ কোটি মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নিউইয়র্কভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটির এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।সংবাদ সম্মেলনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জ্যেষ্ঠ গবেষক ও ওই প্রতিবেদন প্রণেতা রিচার্ড পারহাউস বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের প্রাথমিক নজরে আসার প্রায় বছর বিশেক পরেও বাংলাদেশে অন্তত দুই কোটি মানুষ আর্সেনিক দূষণের জাতীয় মাত্রা (প্রতি লিটারে ৫০ মাইক্রোগ্রাম) ছাড়িয়ে যাওয়া পানি পান করছেন।’তিনি বলেন, যাদের বসবাস প্রধানত গ্রামাঞ্চলে। আর সরকার গ্রামীণ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিশুদ্ধ পানিতে প্রাকৃতিকভাবে সংঘটিত আর্সেনিক দূষণ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সাড়া প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। অবজ্ঞা করছে।সংবাদ সম্মেলনে ‘স্বজনপ্রীতি ও অবহেলা’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে তিনি বলেন, ‘আর্সেনিক দূষণজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৩ হাজার লোক মারা যায়। প্রাথমিকভাবে, সরকার মানুষের ত্বকের ক্ষত থেকে আর্সেনিক দূষণজনিত রোগ শনাক্ত করছে, যদিও তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিপূর্ণতা পায় না। আক্রান্তদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই রয়েছেন ক্যান্সার, হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগের ঝুঁকিতে। কিন্তু অনেকেই কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সেবা পান না।’ পারহাউস জানান, প্রতিবেদনের জন্য হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আর্সেনিক জনিত রোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে এমন মানুষ, পাঁচটি গ্রামে সরকারিভাবে নিয়োগকৃত নলকূপের তত্ত্বাবধায়ক, সরকারি কর্মকর্তা ও এনজিও কর্মকর্তাসহ ১৩৪ জনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত স্থাপিত প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার সরকারি সুপেয় পানির পয়েন্ট সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে অধিকাংশ অগভীর হস্তচালিত নলকূপের পানিতে আর্সেনিক পাওয়া গিয়েছে। যদিও গভীর নলকূপ ভাল মানের পানিস্তরে পৌঁছাতে সক্ষম, কিন্তু যেসব অঞ্চলে অর্সেনিক দূষণের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে সেসব এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনে সরকারি কর্মসূচিতে কোনো প্রাধান্য নেই।’ সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর ডেভিড মেফামও বক্তব্য রাখেন।এএস/এসএইচএস/পিআর