দেশজুড়ে

ভোলায় মামলার জট কমাতে বিকল্প পথে বিচার

ভোলায় লিগ্যাল এইডের উদ্যাগে আদালতে মামলার জট কমাতে বিকল্প পথে দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এতে  বিচার প্রার্থীরা দ্রুত বিচার পাবেন। বিকল্প পথে বিরোধ নিষ্পত্তি করে আইনি সহায়তা দিতেই এ উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান।  শনিবার জেলা জজশিপের হল রুমে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এসময় গরীব মানুষদের আইনি সহায়তা দেয়াসহ দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করতে নানা প্রদক্ষেপ ও প্রস্তাব তুলে ধরেন আইনজীবী, ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা। জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস আহমেদ জানান, বিচারক কম, কিন্তু প্রতিদিন মামলার সংখ্যা বাড়ছে। ভোলা জজশিপেই ২২ হাজার মামলার জট রয়েছে। নিষ্পত্তিযোগ্য মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে হয়রানি থেকে বিচার প্রার্থীরা রেহাই পাবেন। লিগ্যাল এইড এমন সহায়তা দিতেই নতুন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আদালতের বাইরেও সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইডে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য আলাদা বিচারক নিয়োগ দেয়ারও দাবি জানান আইনজীবীরা। একই সঙ্গে গ্রাম পর্যায়ে মামলা রেকর্ড করে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে দ্রুত বিচার শেষ করারও দাবি জানান ইউপি চেয়ারম্যান বশির আহমেদ। সেমিনারে বিচারক, আইনজীবী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। এ সময় বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পাদন মাঠ পর্যায়ে করার জন্য প্রস্তাব তুলে ধরেন বক্তারা। এতে মামলার জট বাড়বে না বলে জানান বিচারকরা।  লিগ্যাল এইডের বিচারক জাকির হোসেন জানান, গত বছরের জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে ৬ মাসে ৪৯১টি মামলার মধ্যে ৩৩৬টি নিষ্পত্তি করা হয়। এ কার্যক্রম আরো দ্রুত করতে নতুন করে প্রদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস আহমেদের সভাপতিত্বে এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হালিম, সিভিল সার্জন ডা. ফরিদ আহাম্মদ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহাবুব আলম, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বেগম হাবিবা মন্ডল, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবির, সিনিয়র সহকারী জজ সাজ্জাদুর রহমান, সহকারী জজ জাকির হোসেন, সহকারী জজ আসিফ এলাহী, সহকারী জজ মো. কামাল হোসাইন, সহকারী পুলিশ সুপার মামুনুর রশিদ, ভোলা বারের সভাপতি এ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ মিয়া, বারের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ, জজশিপের পিপি সৈয়দ আশরাফ হোসেন লাভু, জিপি নুরুন্নবীসহ প্রমুখ।অমিতাভ অপু/এফএ/আরআইপি